বুধবার । ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ । ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩
জামিন ও ন্যায় বিচারের দাবি পরিবারের

ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় মুহসিন মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ দেড় মাস কারাবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়ের করা ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় দেড় মাস কারাবন্দি রয়েছেন দৌলতপুর মুহসিন মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. আব্দুল লতিফ। মানবিক কারণে অসুস্থ স্বামীর জামিন এবং ন্যায়বিচারের দাবি করেছেন পরিবার।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর ওই বছরের সেপ্টেম্বরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনোনীত হন ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শেখ কামরুজ্জামান।

সভাপতি মনোনীত হওয়ার পর নিজের পছন্দমতো সদস্যদের নিয়ে কলেজের ৮টি শূন্য পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেন। ১৩ জুন নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণের পর থেকে অজ্ঞাত কারণে তিনি অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে উপাধাক্ষসহ ৭ কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ অনুমোদনের সভা না করার কারণে সভাপতি তার উপর ক্ষিপ্ত হন। এরপর তার বিরুদ্ধে ১ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ৬৭৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে সাময়িক বরখাস্ত করেন। বরখাস্ত করেও তিনি ক্ষ্যান্ত হননি। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে খুলনা সিএমএম আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি জামিনের প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ আদালত জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

পরিবারের অভিযোগ, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শেখ কামরুজ্জামান তার পছন্দমতো অডিট কমিটি দিয়ে তাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে একপেশে অডিট করান। এমনকি অসৎ উদ্দেশ্যে অডিট কমিটির ব্যয়ভার নিজে বহন করবেন বলে ম্যানেজিং কমিটির সভায় এই মর্মে রেজুলেশন করান। এভাবে তিনি ষড়যন্ত্রমূলক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অর্থ আত্মসাতের মিথ্যা অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

১ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ৬৭৪ টাকা উত্তোলন করে ২০১৭ সালের ১৯ জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ১১ জুন পর্যন্ত কলেজের শিক্ষকদের বেতন ভাতা, কর্মচারীদের বেতন, ভাতা, বোনাস, উৎসব বোনাস, ঈদ বোনাস, কেন্দ্র কি, কলেজের বেঞ্চ তৈরি, পরীক্ষা কমিটির খরচ, ডিগ্রি কোর্স ফি, সিসি ক্যামেরা ক্রয়, ওপিফ বেতন, রূপালী ব্যাংক জমা ও এনসিআরসিসহ বিভিন্ন খাতে ১ কোটি ২৪ লাখ ৮৯ হাজার ৪৩৯ টাকা ব্যয় করেন। যেটি মামলায় উল্লেখ করেননি।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নওরোজী কবির খুলনা গেজেটকে বলেন, ‘কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল লতিফ ১ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ৬৭৪ টাকা উত্তোলন করলেও তিনি কলেজ পারপাসে ব্যয় করেছেন ১ কোটি ২৪ লাখ ৮৯ হাজার ৪৩৯ টাকা। যেটি ওই সময়ের আয় ব্যয়ের হিসাবের তথ্য কলেজে রয়েছে।’

আব্দুল লতিফের স্ত্রী সরকারি এমএ মজিদ ডিগ্রী কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খোদেজা বেগম বলেন, ‘সভাপতি কামরুজ্জামানের নিয়োগ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় মিথ্যা, ষড়যন্ত্র ও হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করে। আমার স্বামী শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ। উনার ডায়াবেটিস, অ্যাজমা এবং হার্টের সমস্যা রয়েছে। বিজ্ঞ আদালতে একাধিকবার জামিনের আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু জামিন মিলছে না। টাকা উত্তোলন করে প্রতিষ্ঠানে খরচের তালিকা আদালতে আমাদের আইনজীবীর মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমরা নিরপেক্ষ অডিটের দাবি জানাচ্ছি। বিজ্ঞ আদালতের কাছে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করছি। মানবিক কারণে অসুস্থ স্বামীর দ্রুত জামিন প্রার্থনা করছি।’

তিনি আরও বলেন, জলবন্দি প্রায় দুই মাস হল। এই প্রথম আমার দুই সন্তান পিতা এবং আমিও স্বামী ছাড়া বিষাদময় ঈদ কাটালাম। ৭ এপ্রিল সিএমএম কোর্টে শুনানি আছে। সেই অপেক্ষায় রয়েছি। না হলে ১৯ এপ্রিল হাইকোর্ট খুললে জামিনের আবেদন করব।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন