মোংলায় চিংড়ি ঘের সংক্রান্ত বিরোধে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে গুরুতর অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ৫ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ৪ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আহতরা হলেন, ঘের মালিক আঃ মান্নান, মনির, সাগর, আলাউদ্দিন, আলমগীর, সালমা, সফিক, সোহরাব এবং জুলফিকার গ্রুপের হাফিজুর রহমান সহ দুইজন রক্তাক্ত জখম হন। পরে এলাকাবাসী তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে সেখান থেকে গুরুতর অবস্থায় বিকেলেই মনিরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত আঃ মান্নান, আলাউদ্দিন ও সাগর বলেন, আমরা দুই বছর ধরে বৈধভাবে ৯০ বিঘার একটি চিংড়ি ঘের করছি। ঘেরটি দখলে নেয়ার জন্য প্রতিপক্ষ জুলফিকার আলী মল্লিকের নেতৃত্বে ৭০/৮০ জনের একটি দল অতর্কিতভাবে আমাদের উপর হামলা চালিয়ে মারধর করে আহত করেছে। এতে আমরা ৭ জন আহত হয়েছি। এ ঘটনায় থানায় এজাহার দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মারধরসহ সালমা বেগমের দুইটি দোকানঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। দোকানটি হতে দেড় লাখ টাকা লুটে নিয়ে গেছে। আমরা এ ঘটনার ন্যায় বিচার দাবি করছি। প্রতিপক্ষের এ হামলা পুলিশের এএসআই সুব্রত দেবনাথের সামনেই হয়েছে।
মোংলা থানার এএসআই সুব্রত দেবনাথ বলেন, ঘেরটি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ ছিল। তাদের দুই পক্ষের মোংলা-রামপাল সার্কেলের সিনিয়র পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করা ছিল। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বসাবসির জন্য আমি ঘটনাস্থলে দুই পক্ষকে নোটিশ করতে গিয়েছিলাম। তখন তারা উভয় পক্ষ সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়ে। আমি একা থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় ঘটনাস্থল থেকে চলে আসি। পরে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে।
থানার (ওসি) তদন্ত মানিক চন্দ্র গাইন বলেন, আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

