আগুনের তীব্র লেলিহানে ভস্মীভূত হয়েছে অভয়নগরের নওয়াপাড়া কাঠপট্টিতে ১৪ টি কাঠের কারখানা। সেই সাথে পুড়েছে তাদের কপাল, তাদের স্বপ্ন-ভবিষ্যৎ। ব্যবসায়ীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন রয়েছেন যাদের আগুনে কেড়ে নিয়েছে সর্বস্ব। সম্বলহীন অসহায় হয়ে পড়েছেন তারা।
আসন্ন ঈদে কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছেন না, অর্ডারি ফার্নিচার পুড়ে কয়লায় পরিণত হয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে মেয়ে জামাইকে উপহার দিতে ফার্নিচার অর্ডার করেছিলেন বসুন্দিয়ার রহমত আলী। তিনি ফার্নিচার চাইছেন কিন্তু এখানে আগুনে পুড়ে সবকিছুই ভস্মীভূত হয়েছে। কোথা থেকে তিনি ফার্নিচার দেবেন। ফার্নিচারের মালিক বলছেন, আমিও অসহায়। এক লাখ টাকার ফার্নিচার পুড়ে ছাই, আমি এখন কী করব! বেশ কয়েকজন কাঠ ব্যবসায়ী জানান, তারা স্থানীয় এনজিও থেকে লাখ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন এবং ঋণের সমস্ত টাকাই এই ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করেছিলেন। কাঠ কিনে মজুত করেছিলেন, ব্যবসায় খাটিয়েছিলেন কিন্তু তাদের সেই বিনিয়োগকৃত অর্থ আগুনে পুড়ে নিঃস্ব হয়েছে তারা। ঈদকে সামনে রেখে কর্মচারীদের না পারছেন বেতন দিতে, না পারছেন নিজেদের সংসার চালাতে। এমন অসহায় কয়েকজন ব্যবসায়ীর নাম উঠে এসেছে এখানে।
এমন একজন হলেন, ধোপাদি গ্রামের আব্দুর রউফ। তার সর্বস্ব অল্প কিছু টাকা দিয়ে শুরু করেছিলেন ব্যাবসা। নওয়াপাড়া শাখা আশা সমিতি থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ফার্নিচার ও পীড়া বেলুনসহ অন্যান্য কুটির শিল্পের তিনটি কারখানা করেছিলেন তিনি, কিন্তু সব আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হওয়ায় তিনি এখন পথের ফকির।
রমজান আলী শেখ এবং তার পুত্র রনি ইসলামের তিনটি দোকান। বাড়ি নোয়াপাড়া গোয়া খোলায়। ফার্নিচার, সাইজ কাঠ, দরজা-জানলা তৈরি এবং কুটির শিল্পের এই তিনটি দোকান আগুনে পুড়ে কয়লায় পরিণত হয়েছে। পিতা ও পুত্রের বিভিন্ন এনজিও সি এস, দুস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র, এবং পায়রা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ১১ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। এই টাকা তারা তিনটি দোকানে বিনিয়োগ করে ব্যাবসা চালিয়ে আসছিলেন।
রনি শেখ জানান, মাত্র ১ বছর হলো তিনি ৬ লাখ টাকা ঋণ করে এই দোকান তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলেন কিন্তু চোখের নিমিষে সবই শেষ হয়ে গেল। অপর ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন নোয়াপাড়া ভাঙ্গা গেটে তার বাড়ি। তার ছিল ফার্নিচার ও কুটির শিল্পের কারখানা ইমরান হোসেনের ১২ লক্ষ টাকা মূল্যের ডোর মেশিন সহ কারখানাটি পুড়ে ভস্ম হয়ে গেছে। ইমরান শেখের ৬ জন কর্মচারীসহ নিজেও তিনি কাজ করতেন। আজ তারা পথে বসেছেন।
তার কর্মচারী রিয়াজ, সালমান, রুবেল, আসাদ, বাবু এবং হেলাল জানান, আমরা প্রতিদিনই এসে এখানে বসে থাকছি, কী করব! অসহায়ের মতো অপেক্ষায় আছি।
গত বুধবার রাত পৌনে দুইটায় শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মোট ১৪ টি দোকান আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ সালাউদ্দিন দিপু, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশীষ কুমার বসু, বিএনপি থানা সভাপতি ফারাজী মতিয়ার রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি আবু নাঈম মোড়ল, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মোল্লা, গোলাম হায়দার ডাবলু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোল্লা হাবিবুর রহমান হাবিব, মশিয়ার রহমান মসি, জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক মহিউল ইসলাম, জামায়াতে আমির সর্দার শরীফ হোসেন সহ বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। শুক্রবার বিকালে ৮৮ যশোর ৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি) অধ্যাপক গোলাম রাসুল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঈদের পূর্বে কর্মচারীদেরকে দল থেকে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
খুলনা গেজেট/এনএম

