বৃহস্পতিবার । ১২ই মার্চ, ২০২৬ । ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২

হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে: প্রথম ভাষণে কঠোর বার্তা মোজতবা খামেনির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এই বক্তব্যে তিনি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের শত্রুদের ওপর চাপ বজায় রাখতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা হবে। একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, দায়িত্ব নেয়ার পর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন এবং তার এই বক্তব্য টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয়। মোজতবা খামেনি বলেন, ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।

টেলিভিশনে প্রচারিত ভাষণে তিনি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান এবং বলেন, ইরানের শত্রুদের ওপর চাপ বাড়াতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করে দিতে হবে। অন্যথায় সেগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে।

নতুন সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে বিশ্বাস করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।

প্রসঙ্গত, প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মুজতবা হোসেইনি খামেনিকে গত রবিবার ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হয়। দেশটির ৮৮ জন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব নিয়ে গঠিত অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট সুপ্রিম লিডার নির্বাচন করে। সর্বশেষ ভোটাভুটিতে তারা মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেন। তিনি সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দ্বিতীয় সন্তান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তেহরানে নিজের বাসভবনে এই হামলায় খামেনির মেয়ে, নাতি ও জামাইসহ আরও উচ্চপদস্থ অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তারাও প্রাণ হারান। এরপর থেকেই মোজতবা খামেনিকে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ভাবা হচ্ছিল।

মোজতবা কখনোই কোনও সরকারি দায়িত্ব পালন করেননি এবং কোনও নির্বাচনেও অংশ নেননি। কিন্তু তার বাবা সুপ্রিম লিডার থাকার সময় ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তার বেশ প্রভাব ছিল। তিনি ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তার বাবা বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই তাকে পরবর্তী সুপ্রিম লিডার হিসেবে দেখা হচ্ছিল। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা নিজে অবশ্য কখনও এ নিয়ে আলোচনা করেননি।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন