ইরানে যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে মেয়েদের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটররা। ওই হামলায় ১১০ জন শিশুসহ মোট ১৬৮ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করছে ইরান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির সামরিক তদন্তকারীরা ধারণা করছেন এই হামলার পেছনে মার্কিন বাহিনীই দায়ী হতে পারে। তবে পেন্টাগন এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে।
সিনেটের প্রায় সব ডেমোক্র্যাট সদস্যের স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে মিনাব এলাকায় চালানো ওই হামলা নিয়ে প্রতিরক্ষা সচিবের কাছে বিস্তারিত প্রশ্ন রাখা হয়েছে। চিঠিতে প্রথমেই জানতে চাওয়া হয়েছে আসলে যুক্তরাষ্ট্রই এই হামলা চালিয়েছে কি না।
সিনেটররা প্রশ্ন তুলেছেন, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে কোনো পুরনো বা ত্রুটিপূর্ণ তথ্য ব্যবহারের কারণে এই বিদ্যালয়টি আক্রান্ত হয়েছে কি না। একইসঙ্গে তারা প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথের পূর্ববর্তী একটি প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। হেগসেথ বলেছিলেন, এই যুদ্ধে কোনো ‘বোকামিপূর্ণ যুদ্ধের নিয়ম’ থাকবে না। ডেমোক্র্যাটরা জানতে চেয়েছেন, যুদ্ধাপরাধ রোধে নির্ধারিত আন্তর্জাতিক নিয়মগুলো তিনি মেনে চলছেন কি না।
যদি এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়, তবে এটি হবে গত কয়েক দশকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অভিযানে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের অন্যতম বড় ঘটনা।
এদিকে, কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান নিজেই এই হামলা চালিয়েছে। যদিও ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের পাশের একটি ইরানি সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন ‘টমাহক’ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানছে।
বিবিসি’র এক প্রশ্নের জবাবে গত সপ্তাহে হেগসেথ জানান, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না এবং পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সিনেটরদের চিঠির বিষয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র : বিবিসি
খুলনা গেজেট/এএজে

