বুধবার । ১১ই মার্চ, ২০২৬ । ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২

ডুমুরিয়া হবে খুলনার ‘জিরো কমপ্লেইন’ থানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের সিদ্ধান্তের আলোকে খুলনার ডুমুরিয়া হবে জিরো কমপ্লেইন থানা। এ থানার মানুষের কোনো অভিযোগ পুলিশের ওপর থাকবে না। জনগণের ভোগান্তি কমাতে এবং পুলিশের প্রতি আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে সরকারের এ উদ্যোগ। একজন সার্কেল অফিসার এখানকার সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং করবে। ৪৫৪ বর্গ কিঃমিঃ এলাকার ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৮৯৯ জন মানুষের বসবাস এ উপজেলা এলাকায়।

মানচিত্র অনুযায়ী উত্তরে ফুলতলা, যশোরের অভয়নগর ও মনিরামপুর, দক্ষিণে বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা, পূর্বে নগরীর খানজাহান আলী, খালিশপুর এবং পশ্চিমে সাতক্ষীরার তালা ও যশোরের কেশবপুর উপজেলা। ১৪টি ইউনিয়ন এ উপজেলার পরিধি। এক সময় ছিল চরমপন্থি অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে খ্যাত।

নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মনোরঞ্জন ঘোষাল ওরফে মৃনাল ও তার বাহিনীর ব্যাপক আধিপত্য ছিল এখানে। সব সরকারের আমলে কমবেশি চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষদিকে ২০২৪ সালের ৬ জুলাই গুটুদিয়া এলাকায় সরাফপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ রবিউল ইসলাম রবি খুন হয়। তিনি তৎকালীন শাসক দলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে তৎকালীন ভূমিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের গাড়ি লুট হওয়ার পর এটি রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী স্থানীয় সংসদ সদস্য আলী আসগর লবী চাঁদাবাজি ও দখলদারির বিরুদ্ধে স্বোচ্চার হয়েছেন। জনগণকে তিনি অভয়ের বানি দিয়েছেন, সাহস জুগিয়েছেন। রাজনীতির নামে দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় আনার জন্য তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, ‘সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য ডুমুরিয়া থানাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এখানকার মানুষ স্বাচ্ছন্দে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবে। জানমালের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের সহযোগিতার জন্য প্রক্রিয়া সহজতর করা হচ্ছে।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শেখ ইমরান জানান, ‘জিরো কমপ্লেইন থানার কার্যক্রম শুরু হলে জনগণের কোনো অভিযোগ থাকবেনা। জনসেবা বাড়ানোর জন্য জনবল বাড়ানো এবং দক্ষ অফিসারদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। এখানে জনগণের ভোগান্তি কমবে। পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে। এটি হবে আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থা।’

ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানান, ‘উপজেলার জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার জন্য থানার পাশাপাশি ৪টি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি করে অস্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্র রয়েছে।’ জিরো কমপ্লেইন থানার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা পাননি বলে এ প্রতিবেদককে জানান।

উল্লেখ্য, জেলার সবচেয়ে বৃহৎ পরিধির উপজেলা এটি। কৃষি ও চিংড়ি চাষের ওপর এখানকার অধিকাংশ মানুষের জীবন জীবিকা।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন