বুধবার । ১১ই মার্চ, ২০২৬ । ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২

উপসাগরীয় ৬ দেশে বিপর্যয়ের মুখে বাংলাদেশসহ ১০ দেশের মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের ফলে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) ছয়টি দেশে বসবাসকারী প্রায় ছয় কোটি ২০ লাখ মানুষ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধার জন্য পরিচিত বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সহ এই দেশগুলি সম্মিলিতভাবে বিশ্বজুড়ে প্রায় তিন কোটি ৫০ লাখ বিদেশী কর্মীকে আশ্রয় দেয়, যার মধ্যে বেশিরভাগই দক্ষিণ এশিয়ার।

সৌদি আরব এবং ওমান বাদে, বাকি চারটি জিসিসি দেশে বসবাসকারী জনসংখ্যার সিংহভাগই বিদেশী কর্মী।

উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিলের দেশগুলোতে বিদেশী কর্মীরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম শ্রমবাজারে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। এদের মধ্যে মধ্যে রয়েছে সাধারণ শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, গৃহকর্মী, নিরাপত্তা কর্মী এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এরা উপসাগরীয় দেশগুলির জন্য পরিচিত আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যান্য দেশের নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও লাখ লাখ মানুষ উপসাগরীয় অঞ্চলকে তাদের আবাসস্থল বলে মনে করে। এছাড়াও ব্যাংকিং, অর্থ, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, বিমান চলাচল, চিকিৎসা এবং মিডিয়ার মতো শিল্পে অত্যন্ত দক্ষ বিদেশী কর্মীদের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিজিটাল মার্কেটিং সংস্থা গ্লোবাল মিডিয়া ইনসাইট অনুসারে, ছয়টি জিসিসি দেশে ১০টি দেশের শ্রমিক সবচেয়ে বেশি বাস করছে। এরা হলো: ভারত: ৯১ লাখ, বাংলাদেশ: ৫০ লাখ, পাকিস্তান: ৪৯ লাখ, মিশর: ৩৩ লাখ, ফিলিপাইন: ২২ লাখ, ইয়েমেন: ২২ লাখ,সুদান: ১১ লাখ, নেপাল: ১২ লাখ, সিরিয়া: ৬ লাখ ৯৪ হাজার এবং শ্রীলঙ্কা: ৬ লাখ ৫০ হাজার।

প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ জনসংখ্যার সৌদি আরব জিসিসির ছয়টি দেশের মধ্যে বৃহত্তম। তেল সমৃদ্ধ এই দেশটিতে স্থানীয় জনসংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ এবং অতিরিক্ত ১ কোটি ৬৪ লাখ হচ্ছে বিদেশী বাসিন্দা। সৌদি আরবে বসবাসকারী ছয়টি বৃহত্তম অ-নাগরিক গোষ্ঠীর মানুষ হল:

বাংলাদেশ : ২৫ লাখ ৯০ হাজার
ভারত : ২৩ লাখ ১০ হাজার
পাকিস্তান : ২২ লাখ ৩০ হাজার
ইয়েমেন : ২২ লাখ ১০ হাজার
মিশর : ১৮ লাখ
সুদান : ১০ লাখ

সংযুক্ত আরব আমিরাত
জিসিসিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির মোট জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ। রাজধানী আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ, আজমান, উম্মে আল কুওয়াইন, রাস আল খাইমাহ এবং ফুজাইরাহ সহ সাতটি আমিরাত নিয়ে গঠিত। আমিরাতের জনসংখ্যার প্রায় ৮৮ শতাংশ বিদেশী।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসকারী ছয়টি বৃহত্তম অ-নাগরিক গোষ্ঠী হল:
ভারত : ৪৩ লাখ ৬০ হাজাার
পাকিস্তান : ১৯ লাখ
বাংলাদেশ : ৮ লাখ ৪০ হাজার
ফিলিপাইন : ৭ লাখ ৮০ হাজার
ইরান : ৫ লাখ ৪০ হাজার
মিশর : ৪ লাখ ৮০ হাজার

কুয়েত
৪৮ লাখ মানুষের দেশ কুয়েত জিসিসিতে জনসংখ্যার দিক থেকে তৃতীয় বৃহত্তম। দেশটিতে প্রায় ১৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষ কুয়েতি নাগরিক এবং ৩৩ লাখ বিদেশী কর্মী।

কুয়েতে বসবাসকারী ছয়টি বৃহত্তম অ-নাগরিক গোষ্ঠী হল:
ভারত : ১১ লাখ ৫২ হাজার
মিশর : ৬ লাখ ৬৬ হাজার
বাংলাদেশ : ৩ লাখ ৫০ হাজার
পাকিস্তান : ৩ লাখ ৩৯ হাজার
ফিলিপাইন : ২ লাখ ৪১ হাজার
নেপাল : ১ লাখ ১ হাজার

ওমান
ওমানের জনসংখ্যা প্রায় ৪৭ লাখ। দেশটির ২৫ লাখ নাগরিক জনসংখ্যার প্রায় ৫৯ শতাংশ, বাকি ২০ লাখ ৫০ হাজার (অথবা ৪১ শতাংশ) বিদেশী কর্মী।

ওমানে বসবাসকারী ছয়টি বৃহত্তম অ-নাগরিক গোষ্ঠী হল:
ভারত : ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৫
বাংলাদেশ : ৭ লাখ ১৮ হাজার ৮৫৬
পাকিস্তান : ২ লাখ ৬৮ হাজার ৮৬৮
মিশর : ৪৬ হাজার ৯৭০
ফিলিপাইন : ৪৫ হাজার ২১৩
উগান্ডা : ২০ হাজার ৮৮৬

কাতার
কাতারের জনসংখ্যা প্রায় ৩২ লাখ, যার মধ্যে ২৮ লাখ ৭০ হাজার হচ্ছে বিদেশী কর্মী। আর কাতারি নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ৩৩ লাখ, যা মোট জনগোষ্ঠীর ১২ শতাংশ।

কাতারে বসবাসকারী ছয়টি বৃহত্তম অ-নাগরিক গোষ্ঠী হল:
ভারত : ৭ লাখ
বাংলাদেশ : ৪ লাখ
নেপাল : ৪ লাখ
মিশর : ৩ লাখ
ফিলিপাইন : ২ লাখ ৩৬ হাজার
পাকিস্তান : ১ লাখ ৮০ হাজার

বাহরাইন
১৫ লাখ ৮০ হাজার জনসংখ্যার দেশ বাহরাইনে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম জনসংখ্যা রয়েছে। বাহরাইনের নাগরিকরা জনসংখ্যার অর্ধেকেরও কম।

দেশটিতে বিদেশি শ্রমিক রয়েছে-
ভারত : ৩ লাখ ৫০ হাজার
বাংলাদেশ : ১ লাখ ১০ হাজার
পাকিস্তান : ১ লাখ
ফিলিপাইন : ৬০ হাজার
মিশর : ২২ হাজার
নেপাল : ২০ হাজার

খুলনা গেজেট/এমএনএস




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন