রাস্তা একটি। কোথাও সরু আবার কোথাও প্রসস্থ। অভিযোগ উঠেছে এক বাড়ির মালিকের কথায় রাস্তা কোথাও ছোট হচ্ছে। আবার আরেক বাড়ির মালিকের কথায় প্রসস্থ হচ্ছে। এভাবেই খুলনা সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে সোনাডাঙ্গার হাসানবাগ মেইন সড়কের কাজ চলছে।
কেসিসি সূত্রে জানা যায়, বিগত সরকারের শেষের দিকে ওয়াসার প্রাপ্ত তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্থ অংশ মেরামত পার্ট-১ এ ২২, ২৯, ২৭, ২৫, ২৮ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তা মেরামতের জন্য ৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনুস এন্ড ব্রাদ্রার্স। ওই প্রকল্পের আওতায় হাসানবাগ মেইন সড়কে (ছোট বয়রাস্থ খুলনা সরকারি কলেজ রোড) আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ চলমান। রাস্তাটি ২০ ফুট চওড়া থাকলেও ১২ ফুট করা হচ্ছে। কারণ সৌদি প্রবাসী জামাল উদ্দীনের ৪ তলা বাড়ির সামনে ৫ ফুট রাস্তা গাইড ওয়াল দেওয়া হয়েছে। আবার তার পাশের দু’টি ৫ তলা বাড়ির সামনে পুরোটাই খোয়া ও বালি দিয়ে রোলার দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে উভয় বাড়ির মালিক ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন।
সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মুন্নী বলেন, ভবিষ্যতে আমার বাড়ি ১০ তলা হলে ড্রেন দরকার। যে কারণে ইঞ্জিনিয়ারকে বলে আমার বাড়ির সামনে আমি গাইড ওয়াল দিয়েছি। ওই জায়গা কেসিসির দাবি করলেও তিনি বলেন, ২০১৯ সালে বাড়ি কেনার সময় আমাদেরকে ওই জায়গা পর্যন্ত বিক্রি করেছে আগের মালিক। তিনি বলেন, নিজের খরচে রাস্তায় তিনি গাইড ওয়াল দিয়েছেন।
তার পরের দুটি ৫ তলা বাড়ি নুরুন্নাহার বেগম ও মমতাজ হোসেনের। তারা দাবি করেন, রাস্তার শুরুতে ২০ ফুট রাস্তা রয়েছে। যে কারণে আমরা বলেছি রাস্তা প্রসস্থ করতে। আমাদের বাড়ির সামনে রাস্তা বড় করেছে। কিন্তু পাশের বাড়ির সামনে রাস্তা ৫ ফুট ছোট রয়েছে।
এ ব্যাপারে ইঞ্জিনিয়ারকে তারা জানালেও অদৃশ্য কারণে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে খামখেয়ালিভাবে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
সাবেক সেনা সদস্য মুদি দোকানী শামীম হোসেন বলেন, রাস্তাটির কোথাও ছোট আবার কোথাও বড় করা হচ্ছে। বাড়ির মালিকদের কথামত এমনটা করা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, ছোট হোক বড় হোক সব জায়গায় একই রকমের রাস্তা করা ঠিক ছিল।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আলী হোসেন বলেন, ইঞ্জিনিয়ার আমাদের যেভাবে বলছে আমরা সেভাবেই কাজ করছি। সিফাত নূর ম্যানশনের সামনে রাস্তা ছোট কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ওই বাড়ির মালিক জামাল নুর হাওলাদার বিদেশে থাকেন। তার স্ত্রী মুন্নী আপা নিজ খরচে গাইড ওয়াল দিয়ে রাস্তা ছোট করেছেন। আমরা ভাঙার কথা বললে তিনি শুনছেন না। তার পাশের বাড়ির সামনে প্রসস্থ কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, তাদের অনুরোধে এবং ইঞ্জিনিয়ার মিঠুর কথামত করেছি।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মিঠু বলেন, ৫ আগষ্টের পরে এ কাজটি পড়ে ছিল। দীর্ঘদিন পরে আবার কাজ শুরু করা হয়েছে। ১২ ফুট রাস্তা করা হচ্ছে। প্রবাসীর বাড়ির সামনে তারা নিজেরাই গাইড ওয়াল দিয়েছে তাদের খরচে। কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিলে ওটা ভেঙে দেওয়া হবে। তবে ওই বাড়ির মালিকের অনুরোধে ৫ ফুট রাস্তা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পাশের বাড়ির সামনে কেন বড় করেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ওই বাড়ির মালিকের ছেলে বড় চাকরি করে। তার সম্মানে বড় করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটিতে বেশ কয়েকটি রাস্তা রয়েছে। এলাকাবাসীর চাহিদায় ছোট বড় করা যায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
খুলনা গেজেট/এনএম

