রাশিয়ার কাছে থেকে তেল কেনায় ভারতের ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন দাবি করেছিলেন, এই তেল বিক্রির অর্থ মস্কোকে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম করছে। ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় সেই রাশিয়ার কাছে থেকেই তেল কিনতে নয়াদিল্লিকে অনুমোদন দিলো ওয়াশিংটন।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত যাতে সমুদ্রে আটকে থাকা রুশ তেল কিনতে পারে সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার ৩০ দিনের একটি ছাড় দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ অব্যাহত রাখতে ট্রেজারি বিভাগ অস্থায়ীভাবে ৩০ দিনের ছাড় দিচ্ছে। যাতে ভারতীয় রিফাইনারিগুলো রাশিয়ার তেল কিনতে পারে।
আগের অবস্থান থেকে সরে আসা প্রসঙ্গে বেসেন্ট বলেন, এই স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থায় রুশ সরকারের বড় ধরনের আর্থিক লাভ হবে না। কারণ এতে কেবল সেই তেলের লেনদেনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে যা ইতিমধ্যে সমুদ্রে আটকে আছে। ইরানের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে যে চাপ তৈরি হয়েছে, এই সাময়িক ব্যবস্থা তা কিছুটা কমাতে সাহায্য করবে।
অনুমোদনের বিষয় সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতে ভারতীয় রিফাইনারিগুলো দ্রুত সরবরাহযোগ্য রুশ অপরিশোধিত তেলের কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল কেনার চেষ্টা করছে।
ভারতে বর্তমানে যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেলের মজুত আছে তা দিয়ে মাত্র ২৫ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। দেশটির মোট তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। সেটিও আবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর সমুদ্রপথে রুশ অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হয়ে উঠেছিল ভারত। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ওয়াশিংটনের চাপের মুখে ভারতীয় রিফাইনারিগুলো সেই কেনাকাটা কমাতে শুরু করে। এর মাধ্যমে নয়াদিল্লি যুক্তরাষ্ট্রের শাস্তিমূলক ২৫ শতাংশ শুল্ক এড়াতে পেরেছে। দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তিও হয়েছে।
বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইরান সংঘাতের কারণে রুশ তেল আমদানির অনুমতি চাইতে ভারত ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। এ বিষয়ে জানতে রয়টার্স ইমেইলে ভারতের খনিজ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। কিন্তু তাৎক্ষণিক সাড়া পায়নি। একইভাবে হোয়াইট হাউস ও মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ও মন্তব্য করেনি।
চীন-ইরান আলোচনার খবর
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, অপরিশোধিত তেল এবং কাতারের গ্যাসবাহী জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দিতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছে চীন। প্রতিবেদনটিতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্রের বরাত দেওয়া হয়েছে।
সাতদিনে গড়ানো যুদ্ধের কারণে কয়েক’শ জাহাজ হরমুজ প্রণালির আশপাশে থেমে আছে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বেড়ছে জ্বালানির দাম। রয়টার্স ও ব্লুমবার্গ জাহাজ-ট্র্যাকিং ডেটার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার একটি চীনা জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে।
চীন ইরানি তেলের বড় ক্রেতা এবং দেশটির ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিন্দা জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছিল, জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ায় চীন তাদের বড় তেল শোধনাগারগুলোকে ডিজেল ও পেট্রল রপ্তানি সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বলেছে।
বেইজিংয়ের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেল শোধনের পর (ডিজেল, পেট্রল) রপ্তানি করে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শোধনাগারগুলোকে নতুন কোনো রপ্তানি চুক্তি না করার এবং ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হওয়া চালান বাতিলের জন্য আলোচনা করতে বলেছে শি জিনপিংয়ের প্রশাসন। তবে বিষয়টি চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করতে পারেনি।
খুলনা গেজেট/এএজে

