এক সময়ের প্রমত্তা ভৈরব নদ নাব্যতা সংকটে এখন মৃত প্রায়। অভয়নগরের নওয়াপাড়ার বুক চিরে প্রবহমান ভৈরব নদ নাব্যতা সংকটে শিল্প ও বাণিজ্য নগরী নওয়াপাড়া হুমকির সম্মুখীন। হাজারো মানুষের জীবন জীবিকার উৎস এই ভৈরব নদকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শিল্প ও বাণিজ্য নগরী নওয়াপাড়া। এই নদের তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ার দক্ষিণাঞ্চলের ব্যস্ততম নওয়াপাড়া নৌবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম মারাত্মক আকারে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে স্থবির হয়ে পড়বে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রটি।
ভৈরব নদীর দ্রাব্যতা সংকট, পলি জমে নদীর গভীরতা কমে যাওয়া, বেআইনি দখল, খাল খাল সংস্কারের অভাবে বন্দরের কার্যক্রম ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে এবং এ কারণেই কার্গো, মালবাহী জাহাজ ডুবি, বাণিজ্য ব্যাহত হওয়া ও নিরাপত্তা সংকট যেমন ঘটছে তেমনি ব্যাবসা-বাণিজ্য শ্রমিক ও অর্থনীতির জন্য বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, নওয়াপাড়া নদী বন্দরের ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অর্ধ কিলোমিটার জুড়ে নদীর দুই তৃতীয়াংশ চর পড়ে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও বন্দর এলাকার কাছে কিছু জায়গায় পলি জমে ভরাট হচ্ছে। নাব্যতা সংকট দেখা দিচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নুর আলম পাটোয়ারী বলেন, “নাব্যতা কমে যাওয়ায় খাদ্যশস্য বাহী কার্গো জাহাজগুলো ভাটার সময় বন্দরে প্রবেশ করতে পারছে না। নাব্যতা সংকটের সমাধান না হলে নওয়াপাড়ার ব্যাবসা-বাণিজ্য একেবারেই হারিয়ে যাবে, পথে বসতে হবে শত শত ব্যবসায়ীকে। একইসঙ্গে নওয়াপাড়া পৌরসভা অচল হয়ে পড়বে। সরকারও হারাবে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। এ সময় তিনি আরও বলেন, “আমরা ব্যবসায়ী হিসাবে বিআইডব্লিউটিএ-এর কাছে জোর দাবি জানাবো নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি করার জন্য।”
নওয়াপাড়া সার ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতি নেতা মুজিবর রহমান বলেন, “নৌ বন্দরটি রেলপথের সুবিধা থাকায় বছরে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার কয়লা, সার, সিমেন্ট খাদ্যশস্যসহ আমদানি করা মালামাল এখানে খালাস হয়। পুরো বাণিজ্য ব্যবস্থা অনেকাংশে নির্ভরশীল ভৈরব নদের উপর। কিন্তু নদের বিভিন্ন স্থানে পলি জমে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে।”
এ ব্যাপারে নওয়াপাড়া বান্দরের উপপরিচালক মোঃ মাসুদ পারভেজ বলেন, “শুকনো মৌসুমে নাব্যতার সংকট একটু প্রকট আকার ধারণ করে সেই কারণে বিআইডব্লিউটিএ চারটি ড্রেজিং মেশিন দিয়ে খনন কার্য সম্পন্ন করা হয়েছে এবং মূল নদে কিছু কিছু জায়গায় নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে সেই সমস্ত স্থানে ইতোমধ্যেই আমাদের বিআইডব্লিউটিএ এর ড্রেজারের মাধ্যমে খনন কাজ করা হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় যে নাব্যতা সংকট ছিল সেগুলো অপসারণ করতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে, দ্রুত এটা সমাধান হয়ে যাবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে নওয়াপাড়া বন্দরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় ভৈরব নদের নিয়মিত ও দীর্ঘমেয়াদি ড্রেজিং নিশ্চিত করা জরুরি অন্যথায় এই বন্দরটি তার নিজস্ব জৌলুস হারানোর পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে সব ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
নদীর নাব্যতা সংকট দূরীকরণে সরকারের নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ, স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী সংগঠন ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। স্থানীয় জনগণকে নদীরক্ষা সম্পর্কে সচেতন রাখা ও রাজস্ব হারানো কমাতে কাঠামোগত প্রচেষ্টা বজায় রাখতে হবে বলে তাদের অভিমত।
খুলনা গেজেট/এনএম

