শুক্রবার । ৬ই মার্চ, ২০২৬ । ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩২
২৭ বছর ধরে নীরবে কাঁদছেন স্বজনরা

উদীচী হত্যা রহস্য আজও আঁধারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর

১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ রাত ১২টা ৩০ মিনিটেও চলছিল উদীচীর দ্বাদশ সম্মেলনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এসময় মুহুর্মুহু বোমা বিস্ফোরণে ধ্বংস স্তূপে রূপ নেয় টাউন হল ময়দান। দিগ্বিদিক ছুটতে থাকা মানুষের বাঁচার আহাজারি। নৃশংস এ বোমা হামলায় প্রাণ হারায় ১০ জন আর গুরুতর আহত হন আড়াই শ’ সাংস্কৃতিক কর্মী ও দর্শক। ওই ঘটনায় আহতদের একজন উদীচী কর্মী সুকান্ত দাস। তিনি আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন সেই দিনের সেই দুঃসহ স্মৃতি। তিনি এক পা হারিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার হাত ও কান। যেন সব থেকেও তার কিছুই নেই। দুর্বিষহ যন্ত্রণার জীবনযাপন তার। সরকার আসে, সরকার যায়, কিন্তু বিচার করেনি কেউ। সবাই বিচারের নামে প্রহসন করেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সুকান্ত দাস।

উদীচী হত্যাকাণ্ডের সময় সুকান্ত ছিলেন তরুণ। আহত হওয়ার পরে এখন বয়সের সঙ্গে প্রতিনিয়ত বেড়েছে তার নানা রোগও। মার্চ মাস আসলেই তাকে তাড়া করে দুর্বিষহ নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডের সব স্মৃতি। ক্ষোভের সাথে সুকান্ত বলছিলেন, উদীচী হত্যার ২৭ বছরেও রহস্য উদ্ঘাটন করা যায়নি, এমনকি মামলাটার কী অবস্থা সেটাও আমরা কেউ জানি না। একটি পা কেটে কৃত্রিম পা লাগিয়ে হাঁটতে হয়। ২০২২ সালে ভারত থেকে কান অপারেশন করি। প্রতিনিয়ত পায়ে যন্ত্রণা করে। বেশি হাঁটতে পারি না। হাত দিয়ে লিখতে পারি না। ২৭ বছর ধরে বাম হাত দিয়ে খাওয়া, লেখাসহ যাবতীয় কাজ করতে হয়। এত কষ্টের পরেও এটা বলতে লজ্জা লাগে, এখনও রাষ্ট্রের কাছে বিচার পেলাম না।

১৯৯৯ সালে, ২৭ বছর আগে যশোরে উদীচীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনের শেষ দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরপর দুটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে নিহত হয় ১০ জন। এতে আহত হয় আড়াই শতাধিক নিরীহ মানুষ। নিহতরা হলেন, নাজমুল হুদা তপন, সন্ধ্যা রানী ঘোষ, নূর ইসলাম, ইলিয়াস মুন্সী, বাবুল সূত্রধর, শাহ আলম মিলন, মোহাম্মদ বুলু, রতন কুমার বিশ্বাস, শাহ আলম পিন্টু ও বাবু রামকৃষ্ণ। দেশে বোমা হামলার কালো অধ্যায় শুরু হয় যশোরে উদীচীর বোমা হামলার মধ্য দিয়েই। অথচ সেই ঘটনাটিরই আজও বিচার হয়নি। জীবদ্দশায় নিহতদের স্বজনরা প্রিয়জনের হত্যার বিচার দেখে যেতে পারবেন কী না, তা নিয়েও তারা সন্দিহান।

এ ব্যাপারে যশোরের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক সংগঠন সমূহের নেতা সানোয়ার আলম খান দুলু বলেন, “সরকারের পর সরকার পরিবর্তন হলো, অথচ আমাদের সহকর্মীদের হত্যার বিচার পেলাম না। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ২৭ বছর পার হলেও বিচারের মুখোমুখি করা যায়নি মূল ঘাতকদের।”

সিআইডির ত্রুটিপূর্ণ চার্জশিটের কারণে ২০০৬ সালের ৩০ মে আদালত থেকে খালাস পেয়ে যায় এ মামলার সব আসামি। পরে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ওই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করলে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়। তবে তাও আটকে পড়ে আইনের বেড়াজালে। উচ্চ আদালতে আপিল শুনানিতে ঝুলে আছে মামলার বিচারিক কার্যক্রম বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ্যাড. সাবেরুল হক সাবু।

এদিকে, উদীচী ট্র্যাজেডির ২৭তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় প্রতিবাদী সমাবেশ ও সন্ধ্যায় শহিদদের স্মরণে মশাল প্রজ¦লন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন