ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় সীমা রাণী বিশ্বাস (২৭) নামের দুই সন্তানের এক জননীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার শাহবাজপুর চৌধুরীপাড়া এলাকায় স্বামীর বাড়ির বাথরুম থেকে দগ্ধ অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে হবিগঞ্জ জেলার বাসিন্দা মৃত রানু শীলের মেয়ে সীমা রাণীর সঙ্গে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর চৌধুরীপাড়া এলাকার নীতেন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে রঞ্জন বিশ্বাসের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে ৭ ও ৪ বছর বয়সী দুই ছেলে সন্তান রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রতিবেশী এক নারী সীমা রাণীর ঘর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে সন্দেহ করেন। পরে তিনি আশপাশের লোকজনকে ডাকেন। স্থানীয়রা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে বাথরুমে দগ্ধ অবস্থায় সীমা রাণীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে সরাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
সরাইল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে দাবি করা হয়েছে যে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনাস্থলের আলামত ও মরদেহের অবস্থা দেখে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এমন দগ্ধ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। মরদেহের পাশ থেকে একটি কেরোসিনের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি রহস্যজনক হওয়ায় বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
খুলনা গেজেট/এমএনএস

