বুধবার । ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩২

সেচ সংকটের আশঙ্কায় শহীদ জিয়ার কাশাদহ সেচ প্রকল্পের কৃষকরা

গেজেট প্রতিবেদন

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে যমুনা নদীতে বিশাল চর জেগে ওঠায় ইরি-বোরো আবাদের ভরা এ মৌসুমে সেচ সংকটের আশঙ্কায় ভুগছেন আরিচা কাশাদহ সেচ প্রকল্পের কৃষকরা। সেচ সংকটে বোরো ধানের আবাদ বন্ধ হলে এলাকায় খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।

জানা গেছে, ১৯৭৯ সালের ১ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জের শিবালয়ের শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে ঐতিহাসিক ‘কাশাদহ সেচ প্রকল্প’ চালু করেন। এ সেচ প্রকল্প চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। প্রথম বছর এ সেচ প্রকল্পটিতে ১ হাজার ৫০০ একর জমিতে ইরি-বোরোর আবাদ করা হয়েছিল।

এ সময় ২০টি পাওয়ার পাম্প দিয়ে যমুনা নদী থেকে পানি তোলার মাধ্যমে প্রকল্পটি চালু করা হয়েছিল। সেখানে এখন মাত্র তিনটি পাওয়ার পাম্প দিয়ে সেচ প্রকল্পটি কোনোরকমে চালু রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে সেচ প্রকল্পটি। ঐতিহ্যবাহী আরিচা কাশাদহ সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে যমুনা নদীরপাড়ে পাম্প বসিয়ে সরাসরি নদীর পানি দিয়ে শিবালয় উপজেলার ১২টি গ্রামের ২ হাজার কৃষক প্রায় ১ হাজার ২০০ বিঘা বা ৩৯৬ একর জমিতে দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে স্বল্প খরচে বোরো আবাদ করে আসছেন।

এতে একদিকে নদীর আয়রনমুক্ত পানি দেওয়ায় জমির উর্বরতা শক্তি ঠিক থাকছে, অপরদিকে সেচ খরচও অনেক সাশ্রয় হচ্ছে। পানির অপচয় রোধ এবং অবকাঠামো উন্নয়নকল্পে সেচ প্রকল্পটি ২০০৪ সালের ৯ আগস্ট কাশাদহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর-৩। সরকারিভাবে কয়েক দফায় প্রায় ২১ কোটি টাকা খরচ করে খালটি পুনঃখননসহ নির্মাণ করা হয়েছে পাকা ড্রেন, স্লুইস গেট ও পানির হাউজ। কিন্তু এবার নদীতে চর জেগে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পানির উৎস। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঐতিহ্যবাহী এ খালটির বিভিন্ন অংশে পলিমাটি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। পানি ধরে রাখা এখন কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থা অব্যাহত থাকলে এবার ইরি-বোরো আবাদ চরমভাবে ব্যাহত হবে। আর সেচের অভাবে বোরো আবাদ করতে না পারলে অত্র এলাকায় খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন উক্ত সেচ প্রকল্পের কৃষকরা।

বড় আনুলিয়া গ্রামের কৃষক মোকছেদ আলী বলেছেন, আমরা ৪৬ বছর ধরে যমুনা নদীরপাড়ে পাম্প বসিয়ে সরাসরি নদীর পানি দিয়ে ইরি-বোরো আবাদ করে আসছি। এতে জমির উর্বরতা শক্তি ঠিক থাকছে এবং সেচ খরচও অনেক কম হচ্ছে। এ বছর পানির হাউজের সামনে যে চর পড়েছে, তা কেটে ক্যানেল তৈরি না করলে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে না। এতে বন্ধ হয়ে যাবে বোরো আবাদ।

এর ফলে এলাকায় খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে। কাশাদহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক আওরঙ্গ জানান, স্বল্প খরচে তীরে পানির পাম্পের মাধ্যমে সরাসরি যমুনা নদী থেকে পানি তোলে প্রায় ৪৬ বছর ধরে এ অঞ্চলের কৃষকরা ইরি-বোরোর আবাদ করে আসছে। বিগত দিনে এ প্রকল্পটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে।

শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, এ বছর যমুনা নদীতে চর পড়ার কারণে ইরি-বোরোর ভরা মৌসুমে সেচ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনীষা রানি কর্মকার বলেন, বিষয়টি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আমাকে অবহিত করার পর উক্ত সেচ প্রকল্প এলাকাটি আমি পরিদর্শন করেছি। কৃষকদের স্বার্থে সেচ সংকটের জন্য অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। তবে কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

খুলনা গেজেট/এমএনএস




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন