বুধবার । ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩২

ব্রাজিলে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস, নিহত ২০

আন্তর্জা‌তিক ডেস্ক

লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে প্রবল বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে কমপক্ষে ২০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ভারী বর্ষণের পর দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাস জেরাইস প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও একাধিক ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে ২০ জনের প্রাণহানির পাশাপাশি বহু বাড়িঘর ধসে পড়েছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে ‘দুর্যোগ পরিস্থিতি’ ঘোষণা করেছে সরকার।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির খবর এসেছে জুইজ দে ফোরা শহর থেকে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানে ১৫ জন মারা গেছেন। এছাড়া উবা শহরে আরও ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রাতভর কয়েকটি বাড়ি ও ভবন ধসে পড়ার পর বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা নিহতদের পরিবার ও যারা ঘরবাড়ি হারিয়েছেন তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি জানান, জুইজ দে ফোরায় ‘দুর্যোগ পরিস্থিতি’ ঘোষণা করা হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেয়া এক বার্তায় লুলা বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে সক্রিয় করা হয়েছে। মানবিক সহায়তা দেয়া এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম এগিয়ে নেয়াই এখন প্রধান লক্ষ্য। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় গতি ও শক্তি নিয়ে সরকার কাজ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শুধু জুইজ দে ফোরাতেই প্রায় ৪৪০ জন গৃহহীন বা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে এবং পানি, খাবার, পোশাক ও স্বাস্থ্যসম্মত সামগ্রীর জন্য অনুদান চেয়েছে।

মেয়র মার্গারিদা সালোমাঁও বলেন, স্থানীয় সরকারে পাঁচ বছরের দায়িত্বকালে এটি তার দেখা সবচেয়ে শোকাবহ ঘটনা। জুইজ দে ফোরায় নিহতদের স্মরণে তিন দিনের সরকারি শোক ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত শহর কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেনি।

মিনাস জেরাইসের গভর্নর রোমেউ জেমা বলেন, প্রদেশের জন্য এটি এক ‘বেদনাদায়ক দিন’। তিনি প্রবল বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জুইজ দে ফোরার ইতিহাসে এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসই সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের সাক্ষী হয়েছে। এ অঞ্চলে ইতোমধ্যে মাসিক গড়ের দ্বিগুণেরও বেশি বৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার দেশের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা মিনাস জেরাইস, রিও ডি জেনেইরোসহ আরও ১২টি অঙ্গরাজ্যে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে। ব্রাজিলে এখন গ্রীষ্মকাল চলছে। এ সময়ে দেশটিতে বজ্রঝড়, বন্যা ও ভূমিধস প্রায়ই দেখা যায়।

২০২৪ সালে দক্ষিণাঞ্চলীয় রিও গ্রান্দে দো সুল প্রদেশে ভারী বৃষ্টিতে শত শত শহর প্লাবিত হয়েছিল। সেবার অন্তত ৮৫ জন নিহত হন এবং প্রায় দেড় লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন