শুক্রবার । ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২

বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি বাড়িয়েই দ্বিতীয়ার্থের মুদ্রানীতি ঘোষণা

গেজেট প্রতিবেদন

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রেখে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্থের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন মুদ্রানীতিতে সুদহার অপরিবর্তিত থাকবে, বাড়বে বেসরকা‌রি ঋণের প্রবৃ‌দ্ধি।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন।

নতুন মুদ্রানীতিতে চলতি অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।

বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর প্রধান নীতি সুদহার রেপো ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে। মূলত ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারি সিকিউরিটিজ বন্ধক রেখে রেপোর বিপরীতে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেয়।

অন্যদিকে, মুদ্রানীতিতে আন্তঃব্যাংক ধার নেওয়ার ক্ষেত্রে নীতি সুদহার স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে।

এ ছাড়া স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৮ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে টাকা রাখার ক্ষেত্রে এ সুদহার প্রযোজ্য হয়।

নতুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়ানো হয়েছে। আগামী জুন পর্যন্ত বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশ‌মিক ৫ শতাংশ নেওয়ার লক্ষ‌্য ঠিক করা হয়েছে।

গত ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ।

বেসরকারি খাতের ঋণ লক্ষ্য গত কয়েক প্রান্তি ধরে অর্জিত হচ্ছে না। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার আসার পর বেসরকারি খাতের গতি বাড়বে, এমনটা ধরে নিয়ে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রাক্কলনকে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে গভর্নর বলেন, আমরা চাই ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা না রেখে বিনিয়োগে যাক। তাই এসডিএফ কমানো হয়েছে; আগামীতে আরও কমানো হবে।

নতুন মুদ্রানীতিতে সরকারি খাতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ২১ দশ‌মিক ৬ শতাংশ ধরা হয়েছে। গত অর্থবছরে সরকারি ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ২০ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হলেও ডিসেম্বর পর্যন্ত নিয়েছিল ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

মুদ্রানীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান, নুরুন নাহার, নির্বাহী পরিচারক ও মুখপাত্র মো. হাবিবুর রহমান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

খুলনা গেজেট/এমএনএস




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন