ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-০২ আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনি প্রচার প্রচারণা। আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত এ আসনে আওয়ামী লীগে অংশ না নিলেও ১৩ জন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে নেমেছেন। তবে এ আসনে এখন স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চাপে চিড়ে-চ্যাপ্টা হবার অবস্থা বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ২১ টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা ও কাশিয়ানী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ-০২ আসন। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৩২৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬২ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ২৫৮ জন ও হিজড়া ভোটার ৪ জন। এ আসেন মোট কেন্দ্র রয়েছে ১৫১টি। আওয়ামী লীগের আতুড়ঘর হিসাবে পরিচিত এ আসন থেকে বিগত নির্বাচনগুলোতে ৯ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম। আর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা হরিয়েছেন জামানত। অন্তত ৯০ ভাগ ভোটারই এখানে আওয়ামী লীগের কর্মি-সমর্থক। তাই ভোটের হিসাব করা এখানে খুবই কষ্টসাধ্য।
তবে, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ না করতে পারায় আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক হিসাবে খ্যাত গোপালগঞ্জ-০২ আসনে হানা দিতে মরিয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। সেক্ষেত্রে এসব ভোট বাগিয়ে নিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অনেকটা এগিয়ে রয়েছেস বলে মনে করছেন অভিজ্ঞমহল।
গোপালগঞ্জ-০২ আসনে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে ভোট যুদ্ধে নেমেছেন ১৩ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসাবে মাঠে রয়েছেন বিএনপি’র দুই বিদ্রোহী ও সদ্য বহিস্কৃত নেতাসহ ৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। বাকী ৭ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা। প্রার্থীরা হলেন বিএনপি’র ডাঃ কে.এম বাবর, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শুয়াইব ইব্রাহিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তসলিম শিকদার, গণফোরামের শাহ মফিজ, জাকের পার্টির মাহমুদ হাসান, জাতীয় পার্টির রিয়াজ সারোয়ার মোল্লা, গণঅধিকার পরিষদের দ্বীন মোহাম্মাদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূইয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এইচ খান মঞ্জু, স্বতন্ত্র প্রার্থী, উৎপল বিশ্বাস, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্বতন্ত্র প্রার্থী, রনী মোল্লা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শিপন ভূইয়া।
এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম.এইচ খান মঞ্জু জনপ্রিয় ব্যক্তি। অপরপ্রার্থী সিরাজুল ইসলামের রয়েছে নিজের গোষ্ঠীর অন্তত ২৫ হাজার রিজার্ভ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্রপ্রার্থী সদ্য বিদায়ী উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান ভূঁইয়ারও রয়েছে বেশ জনপ্রিয়তা। অন্যদিকে, সনাতন হিন্দু ভোটারদের ভোট টানতে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসাবে ভোটে দাঁড়িয়েছেন এ্যাড. উৎপল বিশ্বাস।
এ আসনের ভোটাররা অবশ্য ভোট কেন্দ্রে যাবেন কী-না, ভোট দেবেন কী-না এসব বিষয় নিয়ে রয়েছে নানা মত। কেন্দ্রেগুলো কোনো সহিংসতা হবে কী-না তা নিয়েও তাদের রয়েছে নানা মত-দ্বিমত।
প্রার্থীদের সবার আশা তারা এতোদিন জনগণের পাশে থেকে তাদের সুখ-দুঃখ দেখেছেন। আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় এবং নির্বাচন করতে না পারায় সে সব ভোটারদেরকে নিজেদের পক্ষে নিতে পারবেন এবং তাদের ভোটে নির্বাচিত হবেন।
খুলনা গেজেট/এনএম



