বুধবার । ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ । ১৪ই মাঘ, ১৪৩২

সাতক্ষীরায় শিশু রিয়ান হত্যার ঘটনায় মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরায় শিশু সেহজাদ হোসেন রিয়ানকে অপহরণের পর নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে লাশ পানিতে ফেলে গুম করার চেষ্টার ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নিহতের বাবা সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আখড়াখোলা গ্রামের শাহাদাৎ হোসেন বাদি হয়ে কারো নাম উল্লেখ না করে রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে সদর থানায় এ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

শাহাদাৎ হোসেন জানান, তার ছেলে সেহজাদ হোসেন রিয়ান (৬) আখড়াখোলা আলহ্বাজ্ব সোয়েব হোসেন প্রিক্যাডেট স্কুলে প্লে শ্রেণীতে পড়াশুনা করে। সে কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধি ও চঞ্চল প্রকৃতির ছিল। গত শুক্রবার সকালে সে তার মায়ের সাথে মুকুন্দপুর গ্রামের নানা মতিয়ার রহমানের বাড়িতে বেড়াতে যায়। বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে নানার বাড়ি থেকে সে বের হয়। কিছুক্ষণ পর তাকে না পেয়ে বিকাল সাড়ে চারটার দিকে স্বজনরা বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে। রাতেই তিনি তার ছেলে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় ১৪৪২ নং সাধারণ ডায়েরি করেন।

তিনি আরও জানান, রোববার সকালে তার শ্যালক মেহেদী হাসানের মাছের ঘের থেকে ছেলে রিয়ানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ছেলের ঠোঁটে ও বুকে কিছু কালো রক্তজমা দাগ দেখা যায়। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে ময়না তদন্ত শেষে বিকালে রিয়ানের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নিহত রিয়ানের মামা মুকুন্দপুর গ্রামের সজীব হোসেন জানান, চঞ্চল প্রকৃতির রিয়ান মাঝে মাঝেই বাড়ি থেকে বের হয়ে দোকানে খাবার কিনতে যেতো। বৃহষ্পতিবার দুপুর একটার দিকে রাজনগর বাজারের আগে আরিজুলের মুদি দোকানের সামনে পৌঁছে কান্না শুরু করে। ওই রাস্তা দিয়ে আসার সময় তাদেরই এক আত্মীয় রিয়ানকে নিয়ে বাড়ি পৌঁছে দেয়। শুক্রবার বিকালে তাদের (মামা) বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর এক ব্যক্তি তাকে বাইসাইকেলে করে রাজনগর বাজারের দিকে নিয়ে যায় মর্মে রানা’র ফ্লেক্সি লোড, সার ও কীটনাশক দোকানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যার পর লাশ গুম করার জন্য ঘেরের পানিতে ফেলে দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) সশান্ত ঘোষ জানান, রিয়ানকে হত্যার পর লাশ গুম করার চেষ্টার ঘটনায় তার বাবা শাহাদাৎ হোসেন বাদি হয়ে কারো নাম উল্লেখ না করে থানায় একটি মামলা (৩৭নং) দায়ের করেছেন। উন্নত টেকনোলজি ব্যবহার করে হত্যার রহস্য উন্মোচন ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা করছে পুলিশ।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন