শনিবার । ২৪শে জানুয়ারি, ২০২৬ । ১০ই মাঘ, ১৪৩২

ছাত্র-জনতার ওপর নিষ্ঠুরতম হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে: চিফ প্রসিকিউটর

গেজেট প্রতিবেদন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার ওপর যারা নিষ্ঠুরতম হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল, বাংলাদেশের মাটিতে তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।রবিবার (১৮ জানুয়ারি) জুলাই বিপ্লবে মোহাম্মদপুরে হত্যাকাণ্ড ফাইয়াজ-সৈকতসহ ৯ জনকে হত্যায় তাপস-নানকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দাখিলের পর প্রেস ব্রিফিংয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে ১৮ ও ১৯ জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম রক্তাক্ত দুটি দিন। এই দিনে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে তরুণ-যুবক ছাত্র জনতার ওপরে যে বর্বরতম হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল তার অন্যতম হটস্পট ছিল মোহাম্মদপুর এলাকা। এই স্থানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ফারহান ফাইয়াজ ও মাহমুদুর রহমান সৈকতসহ মোট নয় জনকে হত্যা করা হয় এবং অসংখ্য মানুষ আহত হন।

তিনি বলেন, ওই দিন মাথায় সরাসরি গুলি করে সৈকত- ফাইয়াজকে শহীদ করা হয়। শহীদ সৈকত খুবই প্রাণবন্ত একটা ছেলে ছিল। শহীদ ফারহান ফাইয়াজ অত্যন্ত হাস্যজ্জল একটা ছেলে ছিল। আমাদের প্রত্যেকটা শহীদ তাদের একটা নিজস্ব গল্প আছে, নিজস্ব মহাকাব্যিক উপাখ্যান আছে। শহীদ সৈকত ৬ ফিটের মত সে লম্বা ছিল। সে ঐদিন শুক্রবার ছিল ১৯শে জুলাই জুলাই বিপ্লবের ডেডলিস্ট ডে ছিল। সে মাকে না জানিয়ে সেদিন আন্দোলনে গিয়েছিল মোহাম্মদপুর এলাকায়। চাইনা রাইফেল থেকে পুলিশের একটা দল যখন গুলিবর্ষণ শুরু করে। সে অনেক লম্বা ছিল। গুলিটা সরাসরি তার কপাল ভেদ করে পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে শহীদ হয় সৈকত। ফাইয়াজ-সৈকতের শাহাদাতের ঘটনা ওই সময় ব্যাপক আলোচিত ছিল এবং আবেগ সৃষ্টি করেছিল। এই দুটি তরুণের শাহাদাতের ঘটনা জাতিকে মারাত্মকভাবে উদ্বেলিত করেছিল।

তাজুল বলেন, শহীদদের রক্তের ফলে অর্জিত আজকের বাংলাদেশ। আমাদের অঙ্গীকার ছিল জুলাই বিপ্লবের সময় যারা হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, যারা রাজপথে সরাসরি হত্যাকাণ্ডের সংগঠনের ভূমিকা পালন করেছে, পেছনের যারা পরিকল্পনাকারী নির্দেশদাতা এবং যারা মাস্টারমাইন্ড ছিলেন কমান্ড রেসপনসিবিলিটিতে ছিলেন তাদের প্রত্যেককে আমরা বিচারের মুখোমুখি করবো। সেই অঙ্গীকারের ফলশ্রুতিতে তদন্ত সংস্থা অপরাধীদের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট এবং অন্যান্য এভিডেন্স আদালতে দাখিল করেছেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়েছে। আগামী ২৯ জানুয়ারি পরবর্তী কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচার কার্য শুরু হবে এবং যথানিয়মে নিষ্পত্তিও হবে। এই নিষ্ঠুরতম হত্যাকারীদের বিচার বাংলাদেশে নিশ্চিত করা হবে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন