বুধবার । ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ । ৩০শে পৌষ, ১৪৩২

কৃষ্ণ নন্দীর ২০ কোটি টাকা সম্পদের নগদ ১৮ কোটি, আমির এজাজ খানের বার্ষিক আয় ১ কোটি ৩০ লাখ

মোহাম্মদ মিলন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। খুলনা-১ আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে আছে ১০ প্রার্থী। প্রার্থীরা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিয়েছেন তাদের হলফনামা।

প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সম্পদে এগিয়ে জামায়াতের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী আর বার্ষিক আয়-এ এগিয়ে বিএনপি’র প্রার্থী আমির এজাজ খান।

জামায়াতের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দীর অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ রয়েছে ২০ কোটি ৬৬ লাখ ২৯ হাজার ৯২৪ টাকার। যার মধ্যে নগদ অর্থ ঋণসহ ১৮ কোটি ৫৩ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৪ টাকা হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি। ব্যবসা ও কৃষিখাত থেকে তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে বিএনপি’র প্রার্থী আমীর এজাজ খানের অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা। আর ব্যবসা, কৃষিখাত, এফডিআর ও মুলধনী লাভ থেকে তার বার্ষিক আয় ১ কোটি ৩০ লাখ ৯ হাজার টাকা।

প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনা করে আরও দেখা যায়, জামায়াতের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী এসএসসি পাশ। তিনি পেশা হিসেবে ব্যবসায়ী উল্লেখ করেছেন। তার অস্থাবর সম্পদ ১৯ কোটি ২ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৪ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ এক কোটি ৬৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ ১৮ কোটি ৫৩ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৪ টাকা, ৪৭ লাখ টাকা মূল্যের একটি নিশান জীপ ও একটি টয়েটো প্রোভাক্স প্রাইভেট কার, উপহারের ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ২ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য, উপহারের আসবাবপত্র রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। স্থাবর সম্পদের মধ্যে ২.৪৭ একর কৃষি জমির অর্জনকালীন মূল্য ৯৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ৩৯ লাখ টাকা মূল্যের ০.৫১৫০ একর অকৃষি জমি, ডুমুরিয়ার চুকনগরে ২৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের ২টি তিনতলা পাকা বাড়ি রয়েছে তার। তিনি সবশেষ বছরে ৩০ হাজার ৮০০ টাকার আয়কর প্রদান দাখিল করেছেন।

অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী আমীর এজাজ খান হলফনামায় পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। তিনি বিএ পাশ। তার মামলার সংখ্যা ১৩টি। যার মধ্যে কয়েকটি মামলায় খালাস ও প্রত্যাহার হয়েছে, কিছু মামলা চলামান রয়েছে। ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে তার বার্ষিক আয় ১ কোটি ৩০ লাখ ৯ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ ৩৬ লাখ ৩৯ হাজার ৪১৬ টাকা, ব্যাংকে জমা ২৪ লাখ ৮২ হাজার ২১৪ টাকা, এফডিআর ৮৫ লাখ টাকা, বাস, ট্রাক, মোটরযান ও মোটরসাইকেলের মূল্য ৪০ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ৩০ ভরি সোনা, ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক পণ্য, ১ লাখ টাকার আসবাবপত্র টাকা। এছাড়া তার কৃষি জমি, অকৃষি জমি, ৮টি দোকান বাবদ ৬০ লাখ টাকার মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে। গুরুর খামারে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ৪৭ লাখ ৪৯ হাজার ৮৫১ টাকা। তার স্ত্রীর ২০ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। সবশেষ বছরের আয়কর ১ লাখ ৫৭ হাজার ২০১ টাকা প্রদান করেছেন বিএনপি’র এই প্রার্থী।

শুধু এই দুইজনই নয়, খুলনা-১ আসনের আরও ৮ প্রার্থী হলফনামা দিয়েছেন। এরমধ্যে ইসলামী আন্দোলনের মো. আবু সাঈদ হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘর ফাঁকা রেখেছেন। তার পেশা চাকুরি। বার্ষিক আয় এক লাখ ৯০ হাজার টাকা, ৩৫ হাজার টাকা বর্তমান মূল্যের অস্থাবর সম্পদ এবং ২০ লাখ টাকার বর্তমান মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে তার।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের ফিরোজুল ইসলাম বিএ পাস। পেশার ঘরে তিনি কৃষি উল্লেখ করেছেন। কৃষি থেকে তার বার্ষিক আয় ৪ লাখ টাকা। তার অস্থাবর সম্পদ ২৬ লাখ ৫০ হাজার এবং স্ত্রীর ১০ লাখ টাকার। এছাড়া স্থাবর কোন সম্পদ নেই তার।

জেএসডি’র প্রসেনজিৎ দত্তের শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএলবি এবং পেশা ব্যবসা। ব্যবসা ও কৃষিখাত থেকে তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার। এছাড়া ৪১ লাখ ২৫ হাজার টাকার অস্থাবর এবং ২ কোটি ১০ লাখ ৩৫ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে তার।

বাংলাদেশ মাইনোরিটি জাতীয় পার্টির প্রার্থী প্রবীর গোপাল রায় এমবিএ পাস। পেশায় ব্যবসা। তার বার্ষিক আয় ১৫ লাখ ১৩ হাজার ৮৪৩ টাকা। এছাড়া ৪৬ লাখ ৫ হাজার ৪২৩ টাকার অস্থাবর এবং ৬৮ লাখ ৮৯ হাজার ৯০ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে তার। স্ত্রীর ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

সম্মিলিত জাতীয় জোটের অন্তর্গত বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সুনীল শুভ রায় এমএ পাশ। বার্ষিক আয় ৭ লাখ ১ হাজার ৮৬৯ টাকা। এছাড়া অস্থাবর সম্পদের ঘরেও তিনি ৭ লাখ ১ হাজার ৮৬৯ টাকা উল্লেখ করেছেন তিনি। আর ৭১ লাখ ৮৭ হাজার ১১৫ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে তার। তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৫৬৬ টাকা।

বাংলাদেশ সমঅধিকার পরিষদের সুব্রত মন্ডল এইচএসসি পাশ। তার পেশা ব্যবসা। বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এছাড়া ৫০ লাখ ৬২ হাজার ৬৮১ টাকার অস্থাবর এবং ৫০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে তার।

বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কিশোর কুমার রায় স্নাতক পাশ। পেশা হিসেবে তিনি কৃষি উল্লেখ করেছেন। তার বার্ষিক আয় ২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। এছাড়া ১২ লাখ টাকার অস্থাবর এবং ৩৩ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে তার। স্ত্রীর ১৮ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে তার।

জাতীয় পার্টির মো. জাহাঙ্গীর হোসেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকুরি উল্লেখ করেছেন। পেশায় রাজনীতি। তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এক কোটি ৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ তার। স্থাবর সম্পদের ঘরেও তিনি এক কোটি ৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন