অভয়নগরে শীত উপেক্ষা করে চলতি শীত মৌসুমে বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকেরা। মাঠের পর মাঠ জুড়ে চাষিদের কেউ চারা তুলছেন, কেউ জমি তৈরির কাজ করছেন। আবার কেউবা ক্ষেতে পানি সেচের জন্য ব্যবস্থা করেছেন।
সরেজমিনে, শীতের প্রকোপ উপেক্ষা করে বোরো ধানের চারা রোপণে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের জমিতে বোরো রোপণে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ উপজেলার সর্বত্র জুড়ে এখন চলছে বোরো ধান চাষাবাদের মহোৎসব। প্রচুর শীত থাকায় আবার নিচে অঞ্চলে কৃষকরা পানিতে নামতে একটু দেরি করছেন। সকালে সূর্যের দেখা পেলে তবেই তারা চারা রোপণে নামছেন। আগাম তৈরি বীজতলা থেকে এবারও কৃষকরা শীতের শুরুতেই আগাম চারা রোপণের কাজ শুরু করেছেন। ক্ষেত প্রস্তুত করার লক্ষ্যে জমিতে সেচ ও হাল চাষের কাজেও ব্যস্ত দেখা গেছে কৃষকদের।
মাঠজুড়ে এমনটাই দেখা গেছে উপজেলার কয়েকটি এলাকায়। ধোপাদী ,নওয়াপাড়া গ্রাম, শংকরপাশা, মথুরাপুর. রাঙ্গারহাট, পুড়াখালী, রাজঘাট ও একতারপুর, চেঙ্গুটিয়া এলাকার বিভিন্ন গ্রামে বোরো চাষাবাদের ধুম পড়েছে। এ এলাকায় বোরো মৌসুমে বাম্পার ফলন হওয়ায় খুব আগ্রহ নিয়ে বোরো আবাদ শুরু করেছেন অনেকে। আশা করছেন তারা বোরো আবাদের বাম্পার ফলনের।
চাষিরা জানান, শীত অনেক বেশি থাকার কারণে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। তারপর তারা আনন্দে বোরো আবাদ করছে। অন্যদিকে ভবদহে এলাকায় বোরো আবাদ না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বেশ কয়েকটি এলাকার পানিতে বিল গুলো ডুবে রয়েছে। গত বছর কয়েকটি বিল সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে বোরো চাষাবাদ হলেও এবার তা নিয়ে সংশয় দিখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন কয়েকটি ছোট বিল সেচ দিয়ে আবাদ করতে হবে।
ভবদহ এলাকার কৃষকেরা জানান, এ এলাকায় বোরো আবাদ না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বেশ কয়েকটি এলাকার পানিতে বিল গুলো ডুবে রয়েছে। বোরো আবাদ না হলে না খেয়ে মরতে হবে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, ডুমুরতলা বিল, ডহর মশিয়াটি বিল, সরখোলা, সড়াডাঙ্গা, রাজাপুর, চলিশিয়া, কয়েকটি বিলে বোরো চাষ হবেনা। এখনো পানিতে ডুবে রয়েছে। এ অঞ্চলে কৃষি অফিসে জনবল বৃদ্ধি করে কৃষি চাষে আরও বেশি সেবা দিতে। চাষীরা যেন সঠিকভাবে চাষ করতে পারে সে জন্য উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। মাঠে কয়েকজন কৃষি কর্মকর্তা রয়েছে।
কৃষক ইউনুছ শেখ, রহিম ইসলাম, তরিকুল রহমান, শংকর কুমার, লতিফ মোড়ল, নাছির বলেন, জমি প্রস্তুত। চারা উত্তোলন করছি জমিতে রোপণের জন্য। বোরো ফসলটি ভালো হলে পরিবার পরিজন নিয়ে শান্তিতে থাকতে পারব। তাই যত্ন সহকারে জমি তৈরি করেছি।
এ ব্যাপারে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকতা নৃপেন কুমার জানান, প্রায় এলাকাতে কৃষকরা বীজতলা তৈরির কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। পরিবেশ অনুকূলে থাকলে বোরো ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা পুরণ হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সামদানী বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নের প্রায় জমিতে বোরো ধান চাষ হবে। ভবদহ এলাকার কয়েকটি অঞ্চলে সুন্দলী, চলিশিয়া, পায়রা এলাকায় গতবারের তুলনায় ৩ শত হেক্টর জমিতে কম বোরো আবাদ হবে। ইতোমধ্যে বোরো চারা রোপণ শুরু হয়েছে।
খুলনা গেজেট/এনএম