খুলনা, বাংলাদেশ | ২১ বৈশাখ, ১৪৩১ | ৪ মে, ২০২৪

Breaking News

  খুলনাসহ ২৫ জেলার সব স্কুল-কলেজ আজ বন্ধ
৫ শতাধিক মৎস্য ঘের-পুকুর পানিতে নিমজ্জিত

জোয়ারের পানিতে মোরেলগঞ্জের ২৫ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা রাস্তা বিধস্ত

এম পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সাগরের সৃষ্ট লগুচাপ ও টানা ৪ দিনের অতি বর্ষনে জোয়ারের পানি বৃদ্ধিতে নদীর তীরবর্তী ১০টি গ্রামের ২৫ কিলোমিটার কাঁচা পাকা রাস্তা বিধস্ত হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ৫ শতাধিক মৎস্য ঘের পুকুর পানিতে তলিয়ে গিয়ে ভেসে গেছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বিভিন্ন সেক্টরে।হুমকির মুখে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্রীজ। স্থায়ী ভেড়িবাঁধের কার্যক্রম শুরুর দাবি গ্রামবাসীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপকূলীয় এ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার নদীর তীরবর্তী ৬ ইউনিয়নে অতিরিক্ত জোয়ারের পানি বৃদ্ধির ফলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভেঙ্গে গেছে বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ফুলহাতা, ঘষিয়াখালী, বারইখালী ইউনিয়নের উত্তর বারইখালী, উত্তর সুতালড়ি, কাষ্মির, তুলাতলা, বলইবুনিয়া ইউনিয়নের শ্রেনীখালী, সদর ইউনিয়নের গাবতলা, খাউলিয়া ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া, সন্ন্যাসী, হোগলাবুনিয়ার বদনীভাঙ্গা, পাঠামারা ও সানকিভাঙ্গাসহ বিভিন্ন গ্রামের ১০ কিলোমিটারের ৪/৫টি ইটের রাস্তা বিভিন্ন স্থান থেকে ভেঙ্গে গেছে। এ ছাড়াও ১৫ কিলোমিটারের ৮/১০টি কাঁচা রাস্তা ধ্বসে গেছে।

এসবি বাজারের দুই মাস পূর্বে ভেঙ্গে যাওয়া ব্রীজটি পুননির্মাণ না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে দুই ইউনিয়নের মানুষের। গ্রামের পর গ্রামজুড়ে প্রবেশ করছে জোয়ারের পানি। জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে পড়েছে নিম্নাঞ্চলে। শত শত পরিবারের দুপুরে রান্না হচ্ছেনা জোয়ারের সময়। ৪৫০ হেক্টর সবজি ফসলে ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বহরবুনিয়ার, জিউধরা ও বারইখালীর ৫ শতাধিক মৎস্য ঘের ও ছোট বড় পুকুরের মাছ ভেসে গিয়ে কোটি টাকারও বেশী ক্ষতির আশংকায় পড়েছে ঘের ব্যবসায়ীরা।

কৃষি কর্মকর্তা আকাশ বৈরাগী জানান, লঘুচাপ ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধির কারনে কৃষি সেক্টরে ধান ফসলের তেমন ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। তবে, ৪৫০ হেক্টর সবজি ফসলী জমিতে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। ২/১ দিনের মধ্যে পানি নেমে গেলে তেমন ক্ষতি হবে না।

এ সর্ম্পকে উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, জোয়ারের পানি বৃদ্ধির কারনে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাটের তালিকা করা হচ্ছে। এসবি বাজারের ব্রীজটির বিষয়ে জরুরী ভিত্তিতে নির্মাণের তালিকা পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য অফিসার বিনয় কুমার রায় বলেন, বিশেষ করে বহরবুনিয়া ও জিউধরা ইউনিয়নে মৎস্য ঘেরের ক্ষতির তালিকায় ৩৬৪ মৎস্য ঘের ও ১৬০টি পুকুর তলিয়ে গিয়ে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ক্ষতির তালিকা করে উর্দ্ধতন দপ্তরে ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে।

এ সর্ম্পকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত ৪ দিনের পানি বৃদ্ধির কারনে রাস্তাঘাট সহ বিভিন্ন সেক্টরে ক্ষতির বিষয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে খোঁজ খবর নিয়ে তালিকা করা হচ্ছে। স্থায়ী ভেড়িবাঁধের বিষয়ে বাজেটের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

খুলনা গেজেট /এমএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692

Don`t copy text!