খুলনা, বাংলাদেশ | ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ | ২৫ মে, ২০২৪

Breaking News

  ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়েছে ‘রেমাল’, মোংলা-পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৭ এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত
  উপকূলীয় এলাকায় লঞ্চ চলাচল বন্ধের নির্দেশ

নিষেধাজ্ঞার পর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কমেছিল : ফখরুল

গেজেট ডেস্ক

নওগাঁ শহরে আটকের পর র‌্যাব হেফাজতে সুলতানা জেসমিনের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে আবারও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে।  তিনি বলেন, ‘নওগাঁয় এক নারীকে র‌্যাব তুলে নিয়ে যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসক বলছে, ওই নারীর মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে ‘

তিনি বলেন, ‘যে র‌্যাবের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, সেই র‌্যাবের বিরুদ্ধে আবারও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠা আমাদের জন্য লজ্জার। নিষেধাজ্ঞার পর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কমে গিয়েছিল, এখন তা আবার ঘটতে শুরু করছে।’

সোমবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর ইস্কাটেনর লেডিস ক্লাবে বিশিষ্ট নাগরিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিল পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, ‘সুলতানা জেসমিন বাসা থেকে অফিসে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তাকে র‌্যাব তুলে নিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। ৩৬ ঘণ্টা পর এ ঘটনায় এফআইআর হয়নি। মারা যাওয়ার পর আবার তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা করা হয়েছে। আজকে আমাদের দুর্ভাগ্য যে অসহায়, সাধারণ মানুষ নিজেদেরকে নিরাপদ মনে করছে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নেই। ফ্যাসিবাদী সরকার সে অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আজকে সাংবাদিকরা লিখতে পারছে না। সেলফ সেন্সরশীপ করতে হচ্ছে। সরকার নিজেদের অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখতে সারাদেশে খুন-গুম-হামলা-মিথ্যা-গায়েবি মামলা-নির্যাতন করে ভয়ের সংস্কৃতি চালু করেছে।’

এর আগে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে মির্জা ফখরুল বর্তমান সরকারকে পাকিস্তান বাহিনীর প্রেত্মাতা বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশ এখন এটা একাত্তর সালের পাকিস্তান বাহিনীর এবং পাকিস্তার শাসকের প্রেত্মাতার বাংলাদেশ। পাকিস্তানিরা যেভাবে শাসন, শোষণ ও মানুষের রক্ত চুষে নিয়েছে একইভাবে এই আওয়ামী লীগের সরকার যারা জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে তারা একইভাবে বাংলাদেশের মানুষকে শোষণ করছে, তাদের রক্ত শোষন করছে এবং মানুষকে তারা ভয়ংকরভাবে নির্যাতন করছে।’

গণসমাবেশে সারাদেশের রনণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নেন। তাদের হাতে ছিলো বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। গণসমাবেশে মঞ্চে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্যে একটি চেয়ার সংরক্ষিত রাখা হয়। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের সাতজনের (তারেক রহমান, শ্যামা ওবায়েদ, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইশরাক হোসেন, নিপুণ রায় চৌধুরী, সোনিয়া সান্তা, জামাল হোসেন টুয়েল) হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমানকে দেওয়া বাংলাদেশের পতাকা গ্রহণ করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, শাহজাহান ওমর, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, ফজলুর রহমান, আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, জয়নুল আবদিন, সিরাজুল হক প্রমুখ।

মুক্তিযোদ্ধার প্রজন্মের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শামা ওবায়েদ, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইশরাক হোসেন, নিপুণ রায় চৌধুরী, যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু ও ছাত্রদলের কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। অনুষ্ঠান শুরুর আগে ইন্সটিটিউশনের বাইরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর শাহজাহান ওমর বীরোত্তম এবং গণসমাবেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন আরেক ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692

Don`t copy text!