খুলনা, বাংলাদেশ | ২১ আষাঢ়, ১৪২৯ | ৫ জুলাই, ২০২২

Breaking News

  কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আরফানুল হক রিফাত শপথ নিয়েছেন
  পিকে হালদারকে আরও ১৫ দিনের জেল হেফাজতে পাঠিয়েছেন কলকাতার স্পেশাল সিবিআই কোর্ট-৩
  গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে ৭০২ জনের মৃত্যু হয়েছে ও নতুন করে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৩ লাখ ২৯ হাজার ৬৬ জন

বিএন‌পি নেতা তু‌হিনসহ ৪১ জন আটক, ৮ শতাধিক নেতাকর্মীর নামে মামলা ‌

নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপি খুলনা মহানগর সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিনসহ ৮ শতাধিক নেতাকর্মীর নামে খুলনা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃস্পতিবার (২৬ মে) রাতে খুলনা সদর থানার এসআই বিশ্বজিৎ কুমার বোস বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৬মে) বিকাল অনুমান ৩টার সময় খুলনা থানাধীন ৬ নং কে ডি ঘোষ রোডস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি চলছিল। অপর দিকে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল বিকেল ৪টার দিকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি চলছিল। সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ডাক বাংলো মোড় থেকে ঘুরে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ে আসার সময় বিক্ষোভ মিছিলটি নগরীর পিকচার প্যালেস মোড় ক্রস করার সময় খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা ইট পাটকেলসহ খুলনা জেলা ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের উপর হামলা চালায়। সে সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা বিএনপির নেতাকর্মীদের নিভৃত করার চেষ্টা করলে বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এসময় পিকচার প্যালেস মোড় থেকে বিএনপি অফিস পর্যন্ত ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। এসময় সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিআর সেল নিক্ষেপ এবং রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।

বিএনপির নেতাকর্মীদের ছোরা ইট পাটকেলের আঘাতে ১৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ খুলনা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিনসহ ৪১ জন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরকে গ্রেপ্তার করে।এ ঘটনায় ৮ শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীকে আসামী করে খুলনা সদর থানায় একটি মামলা হয়। মামলা নং-৩১

এদিকে বিএনপি নেতারা বলছেন, খুলনায় বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হামলা চালালে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পুলিশের রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ এবং ছাত্রলীগের তান্ডবলীলায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র এলাকা। পুলিশ বিএনপি অফিসের দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে এবং দলীয় কার্যালয় এলাকা থেকে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন, যুগ্ম আহবায়ক সৈয়দা রেহানা ঈসা, নগর মহিলা দলের সভাপতি আজিজা খানম এলিজা সহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

জানাযায়, খুলনায় ছাত্রলীগ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে বিএন‌পির সমা‌বেশ পন্ড হয়ে গেছে। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে মহানগরীর কেডি ঘোষ রোডস্থ বিএনপি কার্যাালয়ের সামনে বৃহস্পতিবার (২৬ মে) বিকেলে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান আগেই খুলনায় পৌঁছান। সমাবেশে যোগ দিতে ছাত্রদলের জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল নিয়ে পিকচার প্যালেস মোড় হয়ে দলীয় কার্যালয়ের দিকে আসতে থাকেন।

একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় মিছিল বের করেন মহানগর ও জেলা ছাত্রলীগের নেতকর্মীরা। নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের দিকে আসতে থাকেন।

পিকচার প্যালেস মোড়ে তাদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। হামলা ভাংচুর ও সংঘ‌র্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে পু‌লি‌শ, ছাত্রলীগের সাথে বিএনপি নেতাকর্মীদের থে‌মে থে‌মে ইট পাট‌কেল নি‌ক্ষেপ ও টিয়ার সেল নি‌ক্ষে‌পের ঘটনা ঘটে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পারভেজ হাওলাদার প্রেস ব্রিফিংয়ে অভিযোগ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের অশালীন মন্তব্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশের শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিবাদে খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রলীগের পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেল ৪টায় দলীয় কার্যালয়ে সমাবেশের মাধ্যমে বিক্ষোভ মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি দলীয় কার্যালয় হতে শুরু হয়ে পিকচার প্যালেস মোড়, ডাকবাংলা, ফেরীঘাট মোড় হয়ে দলীয় কার্যালয়ে ফেরত আসার সময়ে মিছিলটি পিকচার প্যালেস মোড়ে পৌঁছালে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পিছন থেকে বিএনপি, যুব ও ছাত্রদল অতর্কিত হামলা চালায়। মিছিলটিতে গুলিবর্ষণ, বোমা ও ককটেল এবং ইট পাটকেল নিক্ষেপ এবং আশেপাশের বিভিন্ন বিল্ডিংয়ের ছাদ হতে ইট পাটকেল ও গুলতি দিয়ে কাচের গুলি নিক্ষেপ করে। হাতে দেশীয় অস্ত্রসহ নগরীর কেডি ঘোষ রোড, পিকচার প্যালেস মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে তান্ডব চালায়। ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং সদর থানার সামনে রক্ষিত দু’টি ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করে। তাদের অতর্কিত হামলায় পথচারী ও ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত ও দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করে। বিএনপি, ছাত্র ও যুবদলের হামলায় ছাত্রলীগের শতাধিক নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা জেনারেল হাসপাতালসহ নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি  হাসপাতালে ও ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের হামলায় মহানগর ও জেলা ছাত্রলীগের আবির হোসেন হৃদয়, রেজওয়ান হোসেন ইমন, তানভির রহমান আকাশ, কাজী নজিব, মফিজুর রহমান মুন্না, নাজমুল হুদা অঞ্জন, সজিব তালুকদার, হাসিব শেখ, মনিরুল ইসলাম বান্টি, আকতারুজ্জামান মাসুদ, আজিজুর হাকিম, মোঃ নিয়ামুল, আল-আমিন, ইমরান আহমেদ, হাসান, সামির, শংকর কুন্ডু, ফাহিম ফয়সাল অপলসহ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়।

হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তাৎক্ষণিক দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে মহানগর ও জেলা ছাত্রলীগ। সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এ ন্যাক্কারজনক হামলায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ এবং বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা আ’লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ হারুনুর রশীদ, নগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা, জেলা সাধারণ সম্পাদক এড. সুজিত কুমার অধিকারী, আ’লীগ নেতা অধ্যক্ষ শহিদুল হক মিন্টু, কামরুজ্জামান জামাল, প্যানেল মেয়র আলী আকবর টিপু, শেখ ফারুক হাসান হিটলু, হাফেজ মোঃ শামীম, অসিত বরণ বিশ্বাস, সানাউল্লাহ নান্নু, সিদ্দিকুর রহমান বুলু বিশ্বাস, এস এম আকিল উদ্দিন, নগর যুবলীগের আহবায়ক সফিকুর রহমান পলাশ, নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আসাদুজ্জামান রাসেল, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন, যুবনেতা কাজী কামাল হোসেন প্রমুখ।

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল আলম মনার বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগ হামলা চালায়। এতে বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। অথচ পুলিশ উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে।

তিনি জানান, এ ঘটনায় শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর কে ডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করা হবে। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত থাকবেন।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692