খুলনা, বাংলাদেশ | ৮ শ্রাবণ, ১৪৩১ | ২৩ জুলাই, ২০২৪

Breaking News

  কোটা নিয়ে আপিল বিভাগে শুনানি রোববার; বিশেষ চেম্বার আদালতের আদেশ
  রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে পুলিশ বক্সে আগুন দি‌য়ে‌ছে বি‌ক্ষোভকারীরা

আনার হত্যায় ভারতে জিহাদ ফের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে

গেজেট ডেস্ক

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত সন্দেহভাজন যুবক কসাই জিহাদ হাওলাদারকে ফের ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের (জেল হেফাজত) নির্দেশ দিয়েছে ভারতের আদালত। শুক্রবার (২১ জুন) পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসত জেলা ও দায়রা আদালত এই নির্দেশ দেয়। যদিও এদিন আদালতে উপস্থিত করা হয়নি অভিযুক্ত জিহাদ হাওলাদারকে। বর্তমানে তিনি দমদমের কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। সেখান থেকে ভিডিও কনফারেন্সে আসামীর সঙ্গে কথা বলে তার বক্তব্য শোনেন এবং পরবর্তী হাজিরার দিন ধার্য করে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুভঙ্কর বিশ্বাস। সে ক্ষেত্রে আগামী ৫ জুলাই ফের তাকে আদালতে তোলা হবে।

এদিকে, জানা গেছে বাবার হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কলকাতা যেতে পারেন এমপি আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন।

উল্লেখ্য, গত ২৩ মে জিহাদকে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ থেকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি। ২৪ মে প্রথমবার তাকে বারাসাত আদালতে তোলা হয়। এরপর মোট ২ দফায় ১৪ দিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। সিআইডি রিমান্ড শেষে গত ৭ জুন আদালতে তোলা হলে প্রথম দফায় ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল বিচারক। সেই মেয়াদ শেষেই শুক্রবার ফের আদালতে ভার্চুয়ালি তোলা হয় জিহাদকে।

অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দন্ডবিধির ৩৬৪ (হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ), ৩০২ (অপরাধমূলক নরহত্যা।), ২০১ (তথ্য প্রমাণ লোপাট) এবং ১২০বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র)- এই চার জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ মে কলকাতার নিউটাউনের সঞ্জীবা গার্ডেনে এমপি আনারকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। জঘন্য এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী বাংলাদেশ বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক আখতারুজ্জামান শাহীনের নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড হয় বলে জানা যায়। মূলত আখতারুজ্জামানের নির্দেশেই কসাই জিহাদসহ চার জন সাংসদকে ওই আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাটে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

খুনের পর কসাই জিহাদই ধারালো অস্ত্র দিয়ে এমপি আনারের শরীর থেকে মাংস আলাদা করে সেগুলোকে ক্যারিব্যাগে ভরে রাখে। পরে সেই লাশের টুকরো গুলোকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলার ভাঙ্গড় ব্লকের কৃষ্ণমাটি খাল এলাকায় ফেলা হয়। জিহাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এমনটাই জানতে পারে তদন্তকারী কর্মকর্তারা। পরবর্তীতে ওই খাল সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু হাড় উদ্ধার করে সিআইডির কর্মকর্তারা। যা দেখে সিআইডি কর্মকর্তা ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের অনুমান সেসব মানুষের হাড়।

পাশাপাশি সঞ্জীবা গার্ডেনের ওই আবাসনের সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করা হয় প্রায় চার কেজি মাংস। উদ্ধারকৃত ওই মাংস পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে (সিএফএসএল)। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী এসব পুরুষের।

যদিও সেই খণ্ডবিখণ্ড এসব অংশ এমপি আনারের কি না তা জানতে এবার ডিএনএ পরীক্ষা করতে চায় তদন্তকারী কর্মকর্তারা এবং সেলক্ষ্যে এমপি আনারের কন্যা মুমতারিন ফেরদৌস ডরিনকে কলকাতায় ডাকতে পারে সিআইডি।

এদিকে, জানা গেছে বাবার হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কলকাতা আসতে পারেন ডরিন। দেখা করতে পারেন সিআইডির কর্মকর্তাদের সঙ্গে।

এই বিষয়টি নিয়ে সিআইডির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আমরা বিভিন্ন মারফত জানতে পেরেছি ডরিন কলকাতায় আসছেন। তবে আমাদের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে ডরিনকে কলকাতা আসার কথা বলা হয়নি। কারণ সিএফএসএল থেকে এখনো চূড়ান্ত রিপোর্ট আমাদের কাছে এসে পৌঁছয় নি। সেই রিপোর্ট আসার পর পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ডরিনকে ডাকা হতে পারে। কিন্তু ডরিন যদি কলকাতায় আসেন, আমাদের তরফ থেকে তাকে সব রকম সহযোগিতা করা হবে। যেহেতু এটি একটি আন্তর্জাতিক ও স্পর্শকাতর মামলা, সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে তখনই ডরিনের শরীরের নমুনা সংগ্রহ করে তা সংরক্ষণ করে রাখা হবে এবং সময়মতো সেটি ডিএনএ টেস্টের জন্য পাঠানো হবে।

খুলনা গেজেট/কেডি




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692

Don`t copy text!