নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া গ্রামে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহতের জেরে প্রতিপক্ষের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুরসহ স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সেই সাথে বড় অংকের চাঁদা দাবি ও চাঁদা না দিলে এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে দোতলা বাড়ি ভেঙে ফেলার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। লাহুড়িয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় মনিরুল জমাদ্দার ও মিল্টন জমাদ্দার গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের দিন দুপুরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে মনিরুল গ্রুপের সাবেক আওয়ামীলীগ নেতা আকবার শেখ নিহত হয়। নিহত আকবার শেখ লাহুড়িয়া ইউনিয়ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। এ ঘটনার পর আব্দুল হক, আকরাম শেখের নেতৃত্বে জাকির মাষ্টারের দোতলা বাড়িসহ অন্তত ১০টি বাড়িতে তান্ডব চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদা না দিলে এস্কেভেটর দিয়ে দোতলা বাড়ি ভেঙ্গে ফেলার হুমকি প্রদান করে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা লাহুড়িয়া গ্রামের আব্দুল হক, নিহত আকবার শেখের ভাই আকরাম শেখ আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসী। সাবেক লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক লোহাগড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান শিকদার রুনুর দলের লোক ছিল। বিগত সরকারের আমলে চাঁদাবাজী, সালিস-বিচারসহ এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। আওয়ামী লীগের পতনের পর দল বদল করে বিএনপিতে যোগদানের পর আরো বেপরোয় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ এলাকা অশান্ত করে চলেছে তারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাকির মাস্টারের বাড়ির মালামাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, সিলিং ফ্যান, পরিধেয় কাপড়, ধান-চাল ও অন্যান্য ফসলসহ মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। কথা হয় ওই বাড়িতে থাকা এক নারীর সাথে। তিনি জানান, আব্দুল হক, আকরাম শেখের নেতৃত্বে প্রায় এক থেকে দেড়শজন নারী-পুরুষ এসে ওই বাড়ি ভাংচুর করে ও লুটপাট চালায়। ৫ লক্ষ টাকা না দিলে এস্কেভেটর দিয়ে বাড়ি ভেঙে ফেলবে বলে। এ ঘটনায় তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে এসব অভিযোগের ব্যাপারে আব্দুল হক, আকরাম শেখের বাড়িতে গেলে এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে রাজি হননি কেউ।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আশিকুর রহমান জানান, আমরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছি। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছেন। মানুষের জানমালের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।
খুলনা গেজেট/জেএম