বুধবার । ৬ই মে, ২০২৬ । ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩

নুসরাতের গেজেটের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চাইনি, শুধু রুল চেয়েছি: মনিরা শারমিন

গেজেট প্রতিবেদন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি হয়েছে মঙ্গলবার (৫ মে)। রিট পিটিশনটি হাইকোর্ট ডিভিশন বুধবার আদেশের জন্য রেখেছেন।

মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় এনসিপির আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতিকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। তার গেজেটভুক্ত হওয়া নিয়ে বা তার শপথ গ্রহণের বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি নাই মনিরার। তাই সেই গেজেটের বিরুদ্ধে মনিরার আইনজীবী কোনো নিষেধাজ্ঞা চাননি, শুধু রুল চেয়েছেন।

মঙ্গলবার রাতে দেয়া স্ট্যাটাসে মনিরা শারমিন বলেন, ‘(রিট শুনানিতে) আমার পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান, মোহাম্মদ হোসেইন লিপু, এডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান। যেহেতু নুসরাত তাবাসসুমের গেজেটভুক্ত হওয়া নিয়ে বা তার শপথ গ্রহণের বিরুদ্ধে আমার কোনো আপত্তি নাই, তাই আমার পক্ষ থেকে আমার আইনজীবী কোনো নিষেধাজ্ঞা চাননি, শুধু রুল চেয়েছেন।’

এরপর অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির এই নেত্রী বলেন, ‘গতকাল থেকে দেখছি স্বয়ং অ্যাটর্নি জেনারেল (সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল) এই বিষয় নিয়ে অত্যন্ত কনসার্ন যাতে আইনের কোনো ভুল ব্যাখ্যা না হয় তাই মনিরা শারমিনের শুনানিতে উনি উপস্থিত হয়েছেন। গতকালও এবং আজও। ভালো লেগেছে উনার উৎকন্ঠা। রাষ্ট্রপক্ষে আমার রিটের বিরোধিতা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। উনার বক্তব্য হলো, যেহেতু একজন প্রার্থী গেজেটেড হয়েছেন, তাহলে এই রুল দিয়ে মনিরা শারমিন কোনো প্রতিকার পাবেন না, এটা শুধু একাডেমিক এক্সারসাইজ হবে। মানে লাভ কী?’

এরপর অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে মনিরা শারমিন বলেন, ‘জনাব অ্যাটর্নি জেনারেল, আপনারা লাভ ছাড়া কিছু করেন না আমি জানি। আমার লাভ হলো, এই আইনটা স্পষ্ট হলে আমলা না হয়েও বা ক্ষমতাশালী না হয়েও তাদের দায় কারো নিতে হবে না, তাদের অধিকার ক্ষুন্ন হবে না। এই আইন বৈষম্যমূলক। পৃথিবীর কোথাও এই ধরনের বিষয়ে এরকম ঢালাওভাবে বাধ্যবাধকতা নাই।’

এনসিপির এই নেত্রী তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, ‘শিক্ষিত মানুষের রাজনীতিতে আসতে হবে। একজন সরকারি স্কুলের শিক্ষক যদি মনে করেন, তিনি নির্বাচন করবেন, একজন ব্যাংক কর্মকর্তা যদি চান নির্বাচন করবেন, তার সেই সুযোগ পাওয়া উচিত, ৩ বছরের বাধ্যবাধকতা তার জন্য আরপিত হওয়া উচিত না। আপনারা আমলাদের আটকান, আইজিপিদের আটকান, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ থেকে নির্বাচন করা থেকে আটকান। কিন্তু এভাবে ঢালাওভাবে সবাইকে এই আইনের ভেতরে ফেলা অনুচিত। একাডেমিক এক্সারসাইজ হইলেও আমি এটার প্রতিকার চাই।’

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন