বর্তমান সরকার হাওয়া ভবনের কিচেন কেবিনেট দিয়ে দেশ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বুধবার (২০ মে) রাজধানীর তোপখানা রোডে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স আয়োজিত, ‘জাতীয় অর্থনীতিতে চামড়া শিল্পের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক আলোচনায় একথা বলেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, যারা দুর্নীতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত তারাই দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের থেকে জনগণ কিছু আশা করে না। সীমান্তে লোক মারা যাচ্ছে কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর প্রতিবাদ না জানিয়ে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যর্থ হওয়ায়, প্রধানমন্ত্রীকেই সেই দায়িত্ব নিতে হবে।
দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারওয়ার তুষার বলেন, চামড়াকে শিল্প হয়ে উঠতে না দেওয়ার পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে৷ খুলনা ও যশোর দিয়ে চামড়া পাচার হয়ে যাচ্ছে। ভারতপন্থি ব্যবসায়ীরা এর সঙ্গে জড়িত। পাটের মতো চামড়া শিল্পকে ধ্বংস করা হয়েছে।
আলোচনা সভায় ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্সের আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন মাহদি চামড়া শিল্পের সংকট উত্তরণে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ও ৫ দফা দাবি পেশ করেন।
দাবিগুলো হলো—
১. অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট নির্মূল করে চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। কোরবানির চামড়াসহ সাধারণ সময়ে পশুর চামড়ার সর্বনিম্ন মূল্য যুক্তিসংগত পর্যায়ে নির্ধারণ এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে
২. আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ করতে হবে। এলডব্লিউজি (LWG) সনদ অর্জনের মাধ্যমে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে সরাসরি চামড়া রপ্তানির পথ সুগম করা।
৩. সরকারি উদ্যোগে ট্রেনিংয়ের কার্যকরী ব্যবস্থা চালু করতে হবে। কোরবানির আগে দেশের বিভিন্ন জায়গায় জোন করে চামড়া শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা।
৪. ট্যানারি বৃদ্ধি করতে হবে। সরকারি উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে একাধিক ট্যানারি স্থাপন করতে হবে।
৫. লেদার কলেজকে আধুনিকায়ন করতে হবে। বিদ্যমান লেদার কলেজকে আধুনিকায়ন করে যুগোপযোগী চাহিদা সম্পন্ন আন্তর্জাতিক মানের কলেজ তৈরি করতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
খুলনা গেজেট/এএজে

