এলপি গ্যাসের ১২ কেজি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দাম ১৯৪০ টাকা। কিন্তু ২২০০ টাকা নিচে কোথাও গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যায় না বলে সংসদে অভিযোগ তুলেছেন স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানা। একই সঙ্গে তিনি বিদ্যুতের চুলার কথা উল্লেখ করে বলেন, ঢাকা শহরে লোডশেডিং এক থেকে দুই ঘণ্টা হলেও গ্রামে সেটা ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছেছে। গ্যাস ছাড়া চুলার জ্বালানি নেই।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সংসদের বৈঠকে ‘বেসরকারি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব’র আলোচনার সুযোগ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ নির্বাচনী এলাকায় ঘরে ঘরে গ্যাসের নতুন সংযোগ দেওয়া হোক’ শিরোনামে রুমিন ফারাহানা তাঁর প্রস্তাব উত্থাপন করে বলেন, মেঘনা ও তিতাস পাড়ের দেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ কিংবা শচীন দেব বর্মণের দেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া। কীর্তন ও বাউল গানের দেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ছানামুখি মিষ্টির অপূর্ব স্বাদের দেশ আমার বামুনবইরা। দিগন্ত জোড়া হাওরের দেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া। আবার তুচ্ছ বিষয়ে টেঁটা নিয়ে মাঠে নামার দেশও কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিল্প, সংস্কৃতির রাজধানী বলা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে। এ মাটিতে জন্ম নিয়েছেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বা অলি আহাদের মতো সংগ্রামী যোদ্ধারা, যাদের কল্যাণে বাংলা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পেয়েছে।
আশুগঞ্জ এলাকার শিল্প কারখানার কথা উল্লেখ করেন রুমিন ফারহানা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস যায় সারা বাংলাদেশে। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ গ্যাস পায় না। নিজ নির্বাচনী এলাকা সরাইলের আবাসিক গ্যাস সংযোগ থাকলেও গ্রাহকরা গ্যাসের সংকটে রয়েছেন। সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত গ্যাসের চাপ থাকে না। চুলা মিটমিট করে জ্বলে। ১ ঘণ্টার জন্য গ্যাস আসে, তারপরে রাত পর্যন্ত গ্যাসের খবর নেই। শীতকালে গ্যাসের চাহিদা আরও বাড়ে। অন্যদিকে আছে অবৈধ সংযোগ। লোকবলের অভাবে সংশ্লিষ্ট সংস্থা তদারকি করতে পারছে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ২০১৬ সালে বাসা-বাড়িতে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া বন্ধ করা হলেও অসাধু কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে, যাতে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। এতে বৈধ সংযোগধারীরা গ্যাস পাচ্ছে না। মানুষ মাটির চুলা, এলপিজি ও বৈদ্যুতিক চুলায় ভরসা করছে।
রুমিন ফারহানা বলেন, জীবন মানের এতই উন্নতি হয়েছে, গ্রাম বা মফস্বলের মানুষ ফ্ল্যাটে থাকে, পাকাবাড়িতে থাকে। উঠান অনেকটা বিলাসিতা। মাটির চুলায় রান্না করা বাস্তবতা বিবর্জিত। অন্যদিকে ১৯৪০ টাকার এলপিজি সিলিন্ডার বলে বটে, কিন্তু ২২শ টাকার নিচে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। আর বিদ্যুতের চুলার কথা যদি বলি, ঢাকা শহরে ১-২ ঘণ্টা লোডশেডিং হলেও গ্রামে সেটা ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত গড়ায়। গ্যাস ছাড়া চুলার জন্য কোনো জ্বালানি নেই।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস সারা দেশে যায় উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ পাবে, তারপর এটি অন্য এলাকায় যাবে।
প্রস্তাবের জবাবে জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, গ্যাসের প্রেশার কমে যাওয়ায় লাইনে সরবরাহ কমে গেছে। উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার জন্য শিল্পকারখানায় যতখানি সম্ভব গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার গ্যাস উত্তোলনের জন্য কোনোরকম অনুসন্ধান করেনি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাপেক্সকে শক্তিশালী করে অনুসন্ধানের কাজ শুরু করা হয়েছে। অনুসন্ধানে সফল হলে গ্যাস সংযোগ যেখানে আছে সেখানেই গ্যাসের প্রেশার বাড়ানো সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বিগত সরকার দায়মুক্তি আইন পাস করে জ্বালানি সেক্টরকে জবাবদিহিতার বাইরে রেখেছিল। তারা এ খাতকে আমদানি নির্ভর করে দিয়েছে। বিশাল অংকের বকেয়া রেখে গেছে। বর্তমান সরকার দেশীয় পরিত্যক্ত গ্যাসফিল্ডে যে লেফটওভার গ্যাস আছে, সেগুলো উত্তোলন করে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটানোর চেষ্টার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ক্ষতি হলেও দেশের কৃষির কথা চিন্তা করে আগামী ১ মে হতে সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

