আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিভাগীয় শহরের গুরুত্বপূর্ণ আসন হচ্ছে খুলনা-২। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহানগরের সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, ইসলামী আন্দোলনের নগর সভাপতি মুফতি আমানুল্লাহ ও খেলাফত মজলিসের মো. শহিদুল ইসলাম। এই নির্বাচনে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিয়েছেন তাদের হলফনামা।
প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বার্ষিক আয় ও সম্পদে বিএনপি’র প্রার্থী সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর চেয়ে এগিয়ে জামায়াতের প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল। নজরুল ইসলাম মঞ্জুর অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ১০ লাখ টাকা। তার বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালের অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ রয়েছে এক কোটি ৯৮ লাখ টাকার। আইন পেশা ও শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত থেকে তার বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। আর দেশের বাহির থেকে মাঝে মাঝে অনুদান বাবদ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা বার্ষিক আয়ের ঘরে তিনি উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা তার নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় রয়েছে বলে তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনা করে আরও দেখা যায়, বিএনপি’র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএলবি। পেশা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১১টি মামলায় খালাস ও অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি। ৭০ লাখ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে তার। এর মধ্যে তার নগদ অর্থ ১৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩০৩ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯৪৭ টাকা, ২৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের মোটরযান, ৫২ হাজার টাকার গহনা, ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা মূল্যের ইলেকট্রিক পণ্য রয়েছে তার। স্থাবর সম্পদ রয়েছে ৪০ লাখ টাকার। তার স্ত্রীর এক কোটি ৫১ হাজার ৫৫৫ টাকার অস্থাবর এবং এক কোটি ৯০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ৫ হাজার টাকা আয়কর প্রদান করেছেন বলে তার হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন।
সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু তার নির্বাচন-পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতি হিসেবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা, শিক্ষা, শিল্প ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
জামায়াতের প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমএসএস পাশ। পেশার ঘরে লিখেছেন আইন পেশা। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ২৮টি মামলায় খালাস ও অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে আনুমানিক প্রায় ৫৮ লাখ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ এবং অকৃষি জমি ও দালান মিলিয়ে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে তার। তার স্ত্রীর নামে বর্তমানে আনুমানিক ৪৬ লাখ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল ৪০ হাজার ৯৪১ টাকা আয়কর প্রদান করেছেন বলে তার হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন।
ইসলামী আন্দোলনের মুফতি আমানুল্লাহ’র শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসসি ও পিএইচডি। পেশা শিক্ষকতা। তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া ১০ লাখ ৯৬ হাজার ৩৯৮ টাকার অস্থাবর সম্পদ এবং ৫০ লাখ ২৮ হাজার ৯৯০ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে তার। স্ত্রীর উপহারের ১২ ভরি স্বর্ণ এবং ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে মুফতি আমানুল্লাহ ৪ হাজার ৫৫০ টাকা আয়কর প্রদান করেছেন বলে তার হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন।
খেলাফত মজলিসের মো. শহিদুল ইসলামের শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসএস, এলএলবি। পেশায় আইনজীবী। তার বার্ষিক আয় ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। তার ৩৮ লাখ ২১ হাজার টাকার অস্থাবর এবং ১৯ লাখ ২৫ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। তার স্ত্রীর নামে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে মো. শহিদুল ইসলাম ৪ হাজার টাকা আয়কর প্রদান করেছেন বলে তার হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন।
খুলনা গেজেট/এনএম
