ঢাকা-১৮ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) মাহমুদুর রহমান মান্না নিজেই আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গতকাল শুক্রবার বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর ইসলাম।
হলফনামায় তথ্যের অসঙ্গতি এবং নোটারি পাবলিকের কাগজে স্বাক্ষরের তারিখ নিয়ে গরমিল থাকায় মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়।
এর আগে খেলাপি ঋণ নিয়ে ঝামেলায় পড়েন মান্না। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বগুড়া বড়গোলা শাখা থেকে খেলাপি ঋণের ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা আদায়ে গত ১০ ডিসেম্বর একটি ‘কলব্যাক নোটিশ’ পাঠানো হয়। নোটিশটি পাঠানো হয় মাহমুদুর রহমান মান্নার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের নামে।
নোটিশে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান মান্না এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বি এম নাজমুল কাদির শাজাহান চৌধুরীর ঠিকানা উল্লেখ করা হয়। অংশীদারত্ব কাঠামো অনুযায়ী, আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডে মাহমুদুর রহমান মান্নার মালিকানা ৫০ শতাংশ, এ বি এম নাজমুল কাদির শাজাহান চৌধুরীর ২৫ শতাংশ এবং তার স্ত্রী ইসমত আরা লাইজুর ২৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
নোটিশে গত ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে বকেয়া অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ করা না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়।
পরে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন মাহমুদুর রহমান মান্না। তবে হাইকোর্ট ওই রিট আবেদন খারিজ করে দেয়।
পরে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে গত ২৯ ডিসেম্বর মান্নার নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এতে বগুড়া থেকে জাতীয় নির্বাচন করতে তার বাধা কেটে যায়। কিন্তু ঐ দিনই বগুড়া-২ আসনে জোটসঙ্গী বিএনপি শাহে আলমকে মনোনয়ন দেয়।
এতে মান্নার নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিতে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়। বগুড়া-২ আসনের পাশাপাশি ঢাকা-১৮ আসনেও মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। বগুড়া-২ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও ঢাকা-১৮ আসনে টিকে গেছে তার মনোনয়নপত্র।
খুলনা গেজেট/এএজে
