দাঁত দিয়ে নখ কাটা কেন ক্ষতিকর, জানালেন বিশেষজ্ঞরা

লাইফস্টাইল ডেস্ক

রোমান্টিক কিংবা অ্যাকশনধর্মী কোনো সিনেমা দেখা, পরীক্ষার আগে দুশ্চিন্তা করা, অফিসে কাজের মাঝে আনমনে বসে থাকার মতো পরিস্থিতিতে নিজের অজান্তেই দাঁত দিয়ে নখ কাটতে থাকেন অনেকে। যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় অনিকোফ্যাগিয়া’ বলা হয়। এ অভ্যাস শিশু থেকে শুরু করে বাড়ির প্রাপ্তবয়স্ক অনেক মানুষের মধ্যেই দেখা যায়।

দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যাস আপাতদৃষ্টিতে শুধু সাধারণ ক্ষতিকর অভ্যাস মনে হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে এটি মারাত্মক ক্ষতিকর। কারণ, হাতের নখের নিচে থাকা অদৃশ্য সব জীবাণু দাঁত দিয়ে নখ কাটার সময় মুখে ও পেটে প্রবেশ করে। যা পরবর্তীতে শরীরের বিভিন্ন ক্ষতি করে।

টাইমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের একাডেমি অব ডার্মাটোলজির সদস্য এবং ওয়েইল কর্নেল মেডিকেল কলেজের নখ বিষয়ক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. রিচার্ড শের জানিয়েছেন-এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

এ বিশেষজ্ঞ বলেন, প্রথমত, নখ হচ্ছে নানা ধরনের জীবাণুর আশ্রয়স্থল। বিশেষ করে ‘এন্টেরোব্যাকটেরিয়াসি’ নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, এর মধ্যে সালমোনেলা এবং ই. কোলাই অন্তর্ভুক্ত। যা নখের ডগার নিচের নরম খাঁজে বংশবৃদ্ধির প্রবণতা রাখে। এ অবস্থায় নখ কামড়ানো হলে ওই ব্যাকটেরিয়াগুলো মুখ ও পরিপাকতন্ত্রে পৌঁছায়। যেখানে ব্যাকটেরিয়াগুলো গ্যাস্ট্রো-ইনটেস্টাইনাল সংক্রমণ ঘটানোর সম্ভাবনা থাকে। যা থেকে আপনার ডায়রিয়া ও পেট ব্যথার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

দাঁত দিয়ে নখ কামড়ানোর অভ্যাস যদি দীর্ঘদিনের হয়, তাহলে সমস্যাটি শুধু সাধারণ থাকে না। তখন এটি ‘প্যারোনিচিয়া’ নামক এক ধরনের সংক্রমণে রূপ নিতে পারে বলেও জানিয়েছেন ডা. রিচার্ড।

এ চিকিৎসক বলেন, আঙুলের মাথায় চামড়া ফেটে গেলে বা ছিলে গেলে এর মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া বা ইস্টের প্রজাতি ভেতরে প্রবেশ করার দারুণ সুযোগ পায়। উভয়ই আপনার নখের চারপাশে ও নিচে ফোলাভাব, লালচে ভাব ও পুঁজ সৃষ্টি করে থাকে। এ থেকে মুক্তি পেতে অনেক সময় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় এবং অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ দিয়ে চিকিৎসার দরকার হয়।

সংক্রমণটি ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণে হলে নখ সংবদেনশীল ও যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। এ অবস্থায় প্রতিটি আগুলের ডগাই ব্যথা হতে পারে। এসব কারণে দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যাস যত দ্রুত সম্ভব পরিহার করা উচিত বলে জানিয়েছেন এ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন