একসঙ্গে পথচলার বয়স হয়তো এক বছর, দশ বছর কিংবা পেরিয়ে গেছে অর্ধশতক। সময়ের সঙ্গে সংসারে যোগ হয়েছে কত দায়িত্ব, অভিমান, হাসি-কান্না আর অসংখ্য স্মৃতি। তবু যে মানুষটি প্রতিদিন নীরবে পাশে থেকেছেন, তার জন্য ভালোবাসার দু’টি কথা বলা কি কখনো পুরোনো হয়?
স্ত্রীর প্রশংসা কিংবা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য আসলে কোনো বিশেষ দিনের প্রয়োজন নেই। তারপরও ভালোবাসার কথাগুলো একটু আলাদা করে বলার উপলক্ষ তো থাকতেই পারে। আর সেই উপলক্ষই আজ ‘স্ত্রীর প্রশংসা দিবস’।
প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের তৃতীয় রবিবার যুক্তরাষ্ট্রে উদযাপিত হয় ‘ওয়াইফ অ্যাপ্রিসিয়েশন ডে’। ২০০৬ সাল থেকে দেশটিতে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। পরে ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও দিবসটি পরিচিতি পেতে শুরু করে।
‘ডেজ অব দ্য ইয়ার’-এর তথ্য অনুযায়ী, দিবসটির মূল উদ্দেশ্য স্ত্রীদের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। অর্থাৎ, ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে যিনি সংসার, পরিবার কিংবা সঙ্গীর পাশে থাকেন, তার অবদানকে একটু আলাদা করে স্বীকৃতি দেয়া।
তাই আজকের দিনটি হতে পারে প্রিয় মানুষটির মুখে হাসি ফোটানোর অজুহাত। দিতে পারেন পছন্দের ফুলের তোড়া। ভালোবাসার স্মৃতি ধরে রাখতে উপহার দিতে পারেন আংটি, পারফিউম কিংবা কোনো গয়না। চাইলে দু’জন মিলে প্রিয় রেস্তোরাঁয় খেতে যেতে পারেন, দেখতে পারেন পছন্দের সিনেমা। কিংবা ব্যস্ত শহর ছেড়ে একসঙ্গে ঘুরে আসতে পারেন কোথাও। তবে ভালোবাসা প্রকাশে সবসময় দামি উপহারের প্রয়োজন হয় না। কখনো একটি ছোট্ট চিঠিই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে বড় উপহার। সেখানে লিখে ফেলুন-কেন তিনি আপনার জীবনে এতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার কোন অভ্যাসটি আপনাকে ভালো লাগায়, কিংবা এতগুলো বছর পাশাপাশি থাকার জন্য আপনি কতটা কৃতজ্ঞ।
কারণ সংসারের ব্যস্ততায় অনেক কথাই হয়তো বলা হয়ে ওঠে না। আজ সেই না-বলা কথাগুলো বলার দিন। হয়তো একটি ‘ধন্যবাদ’, একটি ‘ভালোবাসি’ কিংবা ‘তুমি পাশে আছ বলেই জীবনটা সুন্দর’-এই ছোট্ট বাক্যটিই হয়ে উঠতে পারে স্ত্রীর জন্য সবচেয়ে মূল্যবান উপহার।

