বুধবার । ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ । ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩

তালায় ১৫ বছর ধরে শিকলবন্দী তরুণী মিতু, চিকিৎসা পেলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামের মোড়ল পাড়ায় প্রায় গত ১৫ বছর ধরে পায়ে শিকল ও বেড়ি দিয়ে বাধা অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছে মানসিক ভারসাম্যহীন ২৪ বছর বয়সি মিতু নামের এক তরুণী। তবে ভালো চিকিৎসা পেলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে বলে দাবি মিতুর পরিবারের।

স্থানীয়রা জানায়, ‘ছোটবেলা থেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন মিতু। পরিস্থিতির চাপে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পায়ে শিকল পরিয়ে রাখা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শিকলই হয়ে উঠেছে তার জীবনের নির্মম বাস্তবতা। মিতুর পায়ে বাধা শিকল ও বেড়ির ওজন প্রায় ১০ কেজি, যা তার চলাফেরাকে অত্যন্ত কষ্টকর করে তুলেছে। দীর্ঘদিন শিকলবন্দী থাকায় তার স্বাভাবিক জীবনযাপন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।’

স্থানীয়রা আরও জানান, ‘মিতুর বাবা আবুল মোড়ল প্রায় ৮ বছর আগে মারা গেছেন। বর্তমানে মা-ই তাকে দেখাশোনা করছেন। পরিবারে মিতুসহ দুই বোন ও এক ভাই রয়েছে। বড় বোন বিবাহিত, আর ছোট ভাই ঢাকায় একটি বেকারিতে কর্মচারি হিসেবে কাজ করেন। মাত্র ৮ হাজার টাকা বেতনে পুরো পরিবারের খরচ চালানো তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।’

দারিদ্র্য ও অসহায়ত্বের কারণে মিতুর উন্নত চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

মিতুর মা হাসিনা বেগম জানান, ‘মেয়েটি প্রায়ই এদিক-সেদিক চলে যায়, এই আশঙ্কা থেকেই বাধ্য হয়ে তাকে শিকলে বেঁধে রাখতে হয়েছে। অভাবের কারণে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারিনি। তবে ভালো চিকিৎসা পেলে সে সুস্থ হতে পারে।’

এ বিষয়ে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. খালিদ হাসান নয়ন বলেন, ‘সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে মিতুর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
তালা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আরিফুজ্জামান জানান, ‘আমরা বিষয়টি জেনেছি। ইতোমধ্যে আমরা তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কথা বলেছি। আমরা আশা করছি দ্রুত উনাকে এনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে তার চিকিৎসা সব ধরনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।’

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে নিরাপত্তার প্রয়োজনে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, অনেকেই একে অমানবিক বলে মন্তব্য করেছেন।

সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত চিকিৎসা ও প্রশাসনিক উদ্যোগই পারে তরুণী মিতুকে এই শিকলবন্দী জীবন থেকে মুক্ত করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন