রবিবার । ২৯শে মার্চ, ২০২৬ । ১৫ই চৈত্র, ১৪৩২

মধু আহরণ মৌসুম শুরুর আগেই বনের মৌচাক কেটে সাবাড়!

নিজস্ব প্রতি‌বেদক, সাতক্ষীরা

আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুরু হবে সুন্দরবনে মধু আহরণের মৌসুম। এজন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে মৌয়ালরা। কিন্তু মৌসুম শুরুর আগেই অবৈধভাবে সুন্দরবনের মৌচাক কেটে সাবাড় করার অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, দেশব্যাপী সুন্দরবনের খলিশা ফুলের মধুর ব্যাপক চাহিদা। তাই ক্রেতাদের কাছ থেকে অধিক দাম পাওয়ার লোভে অসাধু মৌয়ালরা মাছ ধরার অনুমতি নিয়ে অপরিপক্ব চাক থেকেই মধু কেটে লোকালয়ে এনে চড়া দামে বিক্রি করছেন। এই মধু বিক্রি করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুন্দরবনে গিয়ে মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহের ভিডিও প্রকাশ করছেন। এসব বিষয় বনবিভাগের নজরে আসলেও কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না।

সূত্র মতে, প্রতিবছর বছর ১ এপ্রিল থেকে সুন্দরবনের মধু আহরণের মৌসুম শুরু হয়। তবে তার আগেই অসাধু মৌয়ালরা অপরিপক্ব মৌচাক কেটে মধু সংগ্রহ করছে। এতে মধু উৎপাদন হ্রাস এবং মৌমাছির বংশ বিস্তারের চরম ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

আগাম মধু চুরির ফলে সরকার যেমন রাজস্ব হারাবে, তেমনি লোকসানের সম্মুখীন হতে হবে মৌয়ালদের। পাশাপাশি অপরিণত চাক কাটার ফলে মৌমাছির বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বনের ইকোসিস্টেম।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের গাবুরার মৌয়াল আব্দুর রহিম ও জামাল হোসেন জানান, অপরিপক্ব চাক থেকে মধু সংগ্রহ করার ফলে মৌচাকের সংখ্যা কমে যায়। এতে প্রকৃত মৌয়ালরা তাদের আয়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।

জানা যায়, বেশিরভাগ চোরাই মধু বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনের আওতাধীন বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মৌয়াল বলেন, “এখন মধু কাটতে বন বিভাগের অনুমতি নেওয়া লাগছে না। মাছের পাশ নিয়ে সুন্দরবনের প্রবেশ করে মধু কেটে আনছি। বিনিময়ে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কিছু মধু দিতে হচ্ছে। এ সময়টা মধুর অনেক দাম পাওয়া যায়। ভালো মধু হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে খুব চাহিদা থাকে। আমরা পাইকারি ১২শ থেকে ১৩শ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি।”

বন বিভাগ সূত্র জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে সুন্দরবন থেকে মধু আহরণ করা হয়েছিল ৪ হাজার ৪৬৩ কুইন্টাল। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৮ কুইন্টাল। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আরও কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৮২৫ কুইন্টাল। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কিছুটা বেড়ে ৩ হাজার ১৮৩ কুইন্টাল মধু আহরণ করা হয়েছিল। তবে চুরি করে আহরণ করা মধু বন বিভাগের হিসাবের বাইরে থাকে। অন্যদিকে আগাম চাক কাটার কারণে মৌসুম শুরু হলে মধু কম পাওয়া যায়। এর ফলে বন বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়।

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, এপ্রিল মাসের ১ তারিখ থেকে মধু সংগ্রহের পাশ দেওয়া হবে। আমরা কঠোর নজরদারি রাখছি। যাতে সুন্দরবন থেকে কেউ মধু চুরি করতে না পারে। যদি সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন