সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বৃহষ্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারা দেশের ন্যায় সাতক্ষীরায় শুরু হয়েছে বহু কাঙ্খিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই সঙ্গে বহুল আলোচিত ‘জুলাই গণ-সনদ’ সংস্কারের ওপর গণভোটের ভোট গ্রহণ। দীর্ঘদিন পর একটি মুক্ত ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এক ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে প্রথমবারের মতো একই দিনে ব্যালটের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পক্ষে-বিপক্ষে রায় দেবেন ভোটাররা।
এদিকে সকালে ভোট গ্রহণের শুরুতেই ভোট কেন্দ্র গুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে ভোটারের সংখ্যা। কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা। সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়া ভোট গ্রহণ বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
আশাশুনির বিছট নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা তরুণ ভোটার এম. মিরাজ মাশরাফি জানান, এবারই প্রথম ভোটার হয়েছি, তাই জীবনের প্রথম ভোট দিব আজ। তরুণদের কাঙ্খিত একটি সুন্দর দেশ গঠনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই আমার জীবনের প্রথম ভোট দিব বলে জানান তিনি।

সদর উপজেলার ধুলিহর এলাকার ইউনুচ আলী জানান, গত ২০০৮ সালের পর আর কোন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ পর্যন্ত হবে কিনা তা নিয়েও সাধারণ মানুষের মনে নানা ধরনের সংশয় ছিল। অবশেষে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে কাঙ্খিত ভোট দানের দিন এসেছে। অনেক দিন পর নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় ভাল লাগছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ১৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে ৫ জন, সাতক্ষীরা-২(সদর-দেবহাটা) আসনে ৬ জন, সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) আসনে ৪ জন এবং সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে ৪ জন।
জেলার চারটি সংসদীয় আসনে ৬০৯ টি কেন্দ্রের ৩৪১০টি বুথে মোট ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ৯ লাখ ১৭ হাজার ৮৪৮ জন এবং নারী ভোটার রয়েছে ৯ লাখ ১৪ হাজার ৯১৪ জন। এছাড়া হিজড়া ভোটার রয়েছে ১৩জন।

আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি এবং ১১-দলীয় জোটের (জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক দল সমর্থিত) প্রার্থীদের মধ্যে।
জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে জেলা নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। প্রতিটি কেন্দ্রে সরঞ্জাম পৌঁছানো থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত মোতায়েন থাকবে বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা। একই সাথে সাতক্ষীরার প্রায় ২০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
খুলনা গেজেট/এনএম

