শনিবার । ২৪শে জানুয়ারি, ২০২৬ । ১০ই মাঘ, ১৪৩২

কুমড়োখালী ব্রিজ পথচারীদের মরণফাঁদ!

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা দেবহাটার পারুলিয়া শাখরা-কোমরপুর শাখরা বেইলি ব্রিজটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে ব্রিজটির উপরের লোহার প্লেট ভেঙে গিয়ে একাধিক স্থানে বড় বড় ছিদ্র হয়েছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটা উপজেলার শত শত মানুষ এই ব্রিজ পার হতে বাধ্য হচ্ছেন। দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার না করলে যে কোনো সময়ে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,‘ বিগত ২০০১ সালে দেবহাটা উপজেলার পারুলিয় ইউনিয়নের কুমড়োখালী নদীর উপর বেইলি ব্রিজটি নির্মিত হয়।’ বেইলি ব্রিজটির উত্তর পাশে শাখরা বাজার। কিছু দূরে রয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক বন্দর ভোমরা স্থলবন্দর। বেইলি ব্রিজটির নিচে সীমান্তের ইছামতি নদীর শাখা গভীর কুমড়োখালী নদী প্রবাহিত হওয়ায় সামান্য অসতর্কতা বা দুর্ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। অথচ শাখরা, কোমরপুর, বৈচনা, হাড়দ্দাহসহ ভোমরা বন্দর এলাকাসহ দুই উপজেলার মানুষের জন্য একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম এই ব্রিজটি। এই সেতু দিয়েই শিক্ষার্থীরা স্কুলে যায়, সাধারণ মানুষ বাজারে যাতায়াত করে এবং অসুস্থ রোগীরা জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পৌঁছায়। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি জেনেও স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে প্রতিদিন এই ব্রিজ ব্যবহার করছেন।

দেবহাটা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আল ফেরদাউস আলফা জানান, সীমান্তের ইছামতি নদীর শাখা কুমোখালী নদীর উপর অনেক আগে একটি বাঁশের সাঁকো ছিল। বিগত ২০০০ সালে বন্যার সময় সেটি নষ্ট হয়ে গেলে ২০০১ সালে কুমড়োখালী নদীর উপর একটি বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু গত প্রায় ২৫ বছর ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে বর্তমানে ব্রিজটি চলাচলের একেবারে অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, “ব্রিজের উত্তর পারে একটি দাখিল মাদ্রাসা, একটি মাধ্যমিক স্কুল, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি বাজার রয়েছে। ফলে প্রতিদিন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য মানুষ এই ব্রিজ দিয়ে কি নিয়ে চলাচল করে। এছাড়া ভোমরা বন্দর থেকে বিভিন্ন ধরনের আমদানি পণ্য দেবহাটা, কালিগঞ্জ, আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলা পর্যন্ত যায়। যে কারণে যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে ব্রিজটির গুরুত্ব অপরিসীম। বিষয়টি বহুবার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ ব্রিজটি সংস্কারের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে চলাচল করছে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এএসএম তারিকুল হাসান খান বলেন, “দেবহাটার কুমড়োখালী নদীর উপর বেইলি ব্রিজটি সংস্কারের জন্য আমরা ইতোমধ্যে একটি প্রাক্কলন তৈরি করে আমাদের সদর দপ্তরের পাঠিয়েছি। এখনো অনুমোদন হয়নি। অনুমোদন সাপেক্ষে দরপত্র আহ্বান করে দ্রুত ব্রিজটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন