আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্যে সাতক্ষীরা-৪ আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে আছে ৩ প্রার্থী। প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় সঙ্গে জমা দিয়েছেন তাদের হলফনামা।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা দুই প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রতিপক্ষ জামায়াত দলীয় প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলামের চেয়ে নগদ অর্থ ও সম্পদে অনেক এগিয়ে বিএনপি প্রার্থী ড. মোঃ মনিরুজ্জমান। তবে জামায়াত দলীয় প্রার্থীও নামে ৪৯টি মামলা ছিল।
বিএনপি প্রার্থী ড. মোঃ মনিরুজ্জামানের অস্থা ও স্থাবর সম্পদ রয়েছে ১ কোটি ৩১ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৩ টাকার। যার মধ্যে নগদ অর্থ ২৯ লাখ ৯০ হাজার ২৮৩ টাকা হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি। তার বার্ষিক আয় ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে কৃষিখাত থেকে ৫ লাখ ৬০ হাজার এবং ব্যাবসা থেকে আয় ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এছাড়া ৬১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের গাড়ি, ২ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও ২ লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্র রয়েছে। ২.৯৯ একর কৃষি জমি যার অর্জনকালিন মূল্য ধরা হয়েছে ৩৬ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। রয়েছে পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত একটি তিন তলা বাড়ি। সর্বশেষ দাখিল করা আয়কর রিটার্নে তিনি ১কোটি ৩১ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৩ টাকা সম্পদের উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলামের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ৬৮ লাখ ৭৭ হাজার ৩১৬ টাকার। হলফনামায় তিনি বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৪ হাজার ৬৫ টাকা বলে উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে কৃষিখাত থেকে ৪ লাখ টাকা, সম্পত্তি ভাড়া থেকে ১ লাখ ও ব্যাংক আমানত থেকে তার আয় ৪ হাজার ৬৫ টাকা। তার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ৪ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ টাকার। এর মধ্যে নগদ অর্থ আছে ৬ হাজার ৫৬৯ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে ০.১০ একর কৃষি জমি ও বিলান, ২২.০০ শতক ভিটা এবং ২.২৫ শতক অকৃষি জমির মালিক তিনি। দুইতলা পাকা একটি বসতবাড়ি রয়েছে যার নির্মাণকালিন ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ টাকা। এছাড়া টিন সেডের তিনটি ঘর ও টিন সেডের তিনটি দোকান ঘর রয়েছে তার। সর্বশেষ দাখিল করা আয়কর রিটার্নে তিনি ৬৮ লাখ ৭৭ হাজার ৩১৬ টাকা সম্পদের উল্লেখ করেছেন।
প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনা করে আরও দেখা যায়, বিএনপি প্রার্থী ড, মোঃ মনিরুজ্জামান এমবিএ পাশ। তার নামে ২টি মামলা ছিল। যার প্রত্যেকটি নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। তার পেশা ব্যাবসা।
এদিকে, জামায়াতের প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম বিএ পাশ। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তবে তার বর্তমান পেশা কৃষি। তার বিরুদ্ধে ৪৯টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি মামলায় চার্জগঠন হয়েছে। একটি মামলা স্থগিত এবং বাকি সব মামলা প্রত্যাহার ও নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। তবে তিনি কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হননি।
প্রসঙ্গত, সাতক্ষীরা-৪ আসনে ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল এবং ৩ জনকে বৈধ্য ঘোষণা করেছেন জেলা রিটানিং কর্মকর্তা। ১% ভোটার তথ্য সঠিক নয়, দলীয় মনোনয়ন সঠিক না থাকা এবং ঋণ খেলাপির কারনে বাকি ৪ জনকে বাতিল করা হয়েছে।
এই আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন জিএম নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, মোঃ আব্দুর রশিদ জাতীয় পাটি, মোঃ মনিরুজ্জামান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, হুসেইন মুহাম্মদ মায়াজ জাতীয় পাটি, এইচএম গোলাম রেজা গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি), এসএম মোস্তফা আল মামুন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং মোঃ আব্দুল ওয়াহেদ স্বতন্ত্র।
খুলনা গেজেট/এনএম

