সাতক্ষীরায় গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় সংকট কাটছে না। ডিলারদের দাবি চাহিদার তুলনায় কম গ্যাস সিলিন্ডার পাচ্ছেন তারা। সংকটের সুযোগে বাড়তি দাম নিচ্ছেন বিক্রেতারা। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
গতকাল মঙ্গলবার সাতক্ষীরা শহরের বেশ কয়েকটি গ্যাস বিক্রেতার দোকান ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানে খালি সিলিন্ডার সাজিয়ে রাখা হয়েছে। গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার রয়েছে খুবই কম। আর এই সুযোগে বাড়তি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। সরকার নির্ধারিত ১৩০৬ টাকার গ্যাস সিলিন্ডার এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত। সংকটের কথা বলে ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি দাম নিচ্ছেন বিক্রেতারা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
সাতক্ষীরা শহরের বাটকেখালি এলাকার সাইফুল হোসেন বাবু বলেন, “গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় চালতেতলা বাজারের দোকান থেকে ১৫৭০ টাকা দিয়ে একটি গ্যাস সিলিন্ডার কিনেছি।” দাম বেশি নিচ্ছেন কেন জানতে চাইলে বিক্রেতা বলেন, “সিলিন্ডার কম আছে, সরবরাহ নেই, না নিলে রেখে যান।” বাড়ীতে রান্না বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হলো। এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম সরকারিভাবে নির্ধারণ করে দেওয়ার পরও অনেক বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
শহরের রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সদস্য আব্দুল আহাদ জানান, “কৃত্রিম সংকট তৈরী করে এলপিজি সিলিন্ডরের দাম বাড়ানো হয়েছে। যে করাণে বেশিরভাগ রেস্তোরাঁয় গ্যাস কিনতে সরকার নির্ধারিত মূল্য অপেক্ষা ৪-৫শ’ টাকা বেশি খরচ করতে হচ্ছে।
ডিলারদের অভিযোগ সাতক্ষীরা শহরের দৈনিক চাহিদার তুলনায় অর্ধেকের বেশি গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। যারা কিছু গ্যাস সরবরাহ করছেন, তারাও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নিচ্ছেন। কাজেই সংকট না কাটলে দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না বলে বলছেন তারা।
শহরের মুনজিতপুর এলাকার এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী বাবু জানান, “কোম্পানি থেকে সরবরাহ না থাকায় তারা গ্যাস বিক্রি করতে পারছেন না।” তিনি আরও জানান, “কোম্পানি থেকে চাহিদার তুলনায় খুবই কম গ্যাস পাঠানো হচ্ছে। দ্রুত এই সংকট নিরসন না হলে মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।”
সাতক্ষীরা জেলা এলপি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাশেদুজ্জামান রাশি বলেন, “গত এক সপ্তাহ ধরে তার ঘরে কোনো গ্যাস সিলিন্ডার ছিলা না। অনেক চেষ্টার পর রবিবার এক গাড়িতে ৩শ’ সিলিন্ডার পেয়েছি। কিন্ত চাহিদা বেশি থাকায় দ্রুত এই গ্যাস ফুরিয়ে যাবে। আমাদেও চাহিদা মত গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।”
খুলনা গেজেট/এনএম
