সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে কুকুর-বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড় ও আঁচড়ে আহত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু চাহিদা বাড়লেও বন্ধ রয়েছে হাসপাতালের এন্টিরেবিস বা জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম। ভ্যাকসিন না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন রোগীরা।
প্রতিষেধক সংকটের কারণে গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে সরকারি ওই প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিনামূল্যে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে চড়াদামে ভ্যাকসিন কিনে এনে দিচ্ছেন অনেক রোগীরা। ফলে আহত হয়ে হাসপাতালে ভ্যাকসিন নিতে আসা রোগীরা পড়ছেন বিপাকে।
এদিকে, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে এন্টিরেবিস ভ্যাকসিন সংকটের কারণে অবৈধভাবে সুযোগ নিচ্ছেন কিছু অসাধু ফার্মেসি মালিকরা। তারা মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দ্বিগুণ দাম বিক্রি করছেন এই ভ্যাকসিন। পূর্বের নির্ধারিত ৪৫০ টাকা দামের ভ্যাকসিন তারা কারো কাছ থেকে ৮০০ টাকা, কারো থেকে ৯০০ টাকা, এমনকি কারো কাছ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন।
গত ১০ জানুয়ারি সকালে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন সেন্টারে গিয়ে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা এসেছেন ভ্যাকসিন নেয়ার জন্য। কিন্তু সরবরাহ না থাকায় হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন তারা। অনেকে চড়া দামে ভ্যাকসিন কিনে এনে সিস্টারদের দ্বারা পুশ করিয়ে নিচ্ছেন। এভাবে প্রতিদিন কয়েক শ’ রোগী হাসপাতালে এসে ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
বন্ধুর মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ভ্যাকসিন দিতে আসা সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল এলাকা সিরাজুল ইসলাম জানান, সদর হাসপাতালের ভ্যাকসিন সেন্টার থেকে সরবরাহ না থাকায় কলারোয়ার একটি ফার্মেসি থেকে ভ্যাকসিন কিনে এনেছেন ৯০০ টাকা দিয়ে।
কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে সদর হাসপাতালে ভ্যাকসিন নিতে আসা কলরোয়া উপজেলার পাঁচনল গ্রামের সাকিবুল হাসান (১৭), একই উপজেলার জয়নগর গ্রামের আজিজুল গাজী (৪৫) এবং বিড়ালের আঁচড়ে আহত সদর উপজেলার টেংরা ভবানীপুর গ্রামের প্রিয়াঙ্কা (৮) ও শহরে অদূরে বকচরা গ্রামের শরিফা খাতুন (২৫) জানান, পরপর দু’দিন হাসপাতাল এসে ভ্যাকসিন না পেয়ে তারা ফিরে যাচ্ছেন। ভ্যাকসিন সেন্টার থেকে বলা হচ্ছে বাইরে থেকে কিনে আনলে তারা পুশ করে দিবেন। কিন্তু বাইরে এক একটা ভ্যাকসিনের দাম ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। এমনকি কেউ কেউ এক হাজার টাকা পর্যন্ত চাচ্ছেন, যা আমাদের পক্ষে কেনা একবারে অসম্ভব। তাছাড়া সব দোকানে আবার ভ্যাকসিন পাওয়াও যাচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদর হাসপাতালের ভ্যাকসিন সেন্টারে দায়িত্বরত সিস্টাররা জানান, গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে সদর হাসপাতালে ভ্যাকসিনের সরবরাহ নেই। এই অবস্থায় প্রতিদিন প্রায় আড়াই শ’ থেকে ৩শ’ রোগী আসেন ভ্যাকসিন নেয়ার জন্য। ভ্যাকসিন না পেয়ে আমাদের সাথে অনেকে খারাপ আচরণ করেন। অনেকে কটু কথাও বলেন। মুখ বুজে আমাদের সবকিছু সহ্য করতে হচ্ছে।
জানা যায়, গড়ে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ রোগী এন্টিরেবিস ভ্যাকসিন নিতে আসেন সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল। জেলায় গত এক মাসে প্রায় ৫ হাজারের বেশি রোগী বিভিন্ন প্রাণীর দ্বারা আক্রান্তের শিকার হয়েছে। কিন্তু সদর হাসপাতাল থেকে তারা ভ্যাকসিন সুবিধা পাচ্ছেন না।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মানস কুমার বলেন, “জলাতঙ্ক প্রাণঘাতী রোগ। কামড়ের পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ভ্যাকসিন না নিলে মৃত্যুঝুকি অনিবার্য। তাই এই ভ্যাকসিনের সংকট থাকলেও রোগীকে বাধ্যতামূলক চার থেকে পাঁচ ডোজ নিতে হয়।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুস সালাম বলেন, “গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে হাসপাতালে এন্টি রেবিস ভ্যাকসিনের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আমরা অনেক আগেই বরাদ্দ পত্র পাঠিয়েছি। কিন্তু সরবরাহ পাচ্ছি না। আশা করছি আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি নাগাদ ভ্যাকসিনের বরাদ্দ পাওয়া যাবে।”
খুলনা গেজেট/এনএম
