সাতক্ষীরার শ্যামনগরে নানা অনিয়মের অভিযোগে আনিকা ক্লিনিককে সিলগালা করেছে প্রশাসন। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে ক্লিনিকটি সিলগালা করার সময় সেখানে ৭ জন সিজারিয়ান রোগী ভর্তি ছিলো। পরে তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়।
এর আগে, শনিবার বিকালে উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে সালেহা খাতুন (২৭) বিষপান করলে তাকে আনিকা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিয়ম ও সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিষপানের রোগীর ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ‘স্টোমাক ওয়াশ’ বা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর বাধ্যতামূলক। কিন্তু অধিক বিল হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ক্লিনিক মালিক ডাক্তার আনিসুর রহমান রোগীকে দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টা আটকে রাখেন। পরে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে রোগীর মৃত্যু হয়।
এদিকে ক্লিনিকটির মালিক ডাক্তার আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। স্থানীয় কিছু অসাধু চিকিৎসকের সঙ্গে যোগসাজশ করে কমিশন ভিত্তিকে রোগী ভাগিয়ে আনার সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন তিনি। কয়েকদিন আগে রোগীর স্বজনদের আটকে রেখে টাকা আদায় করার জন্য রোগীর স্বজনদের মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।
ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন বলেন, আমরা গ্রামের মানুষ। সরকারি হাসপাতালে রোগী নিয়ে আসলে তারা বলে বাইরে ভালো চিকিৎসা হবে বলে আমাদের এসব ক্লিনিকে নিয়ে যায়। পরে আমাদের জিম্মি করে অর্থ আদায় করে কিন্তু ভালো চিকিৎসা পাইনা।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সরকারি হাসপাতালের নাকের ডগায় দিনের পর দিন এ ধরনের অপকর্ম হচ্ছে, কিন্তু সবকিছু দায় সারা তদন্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালটির আবাসন সংকট চরমে। কিন্তু অজানা কারণে হাসপাতাল ভবনটির নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য, পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার জিয়াউর রহমান বলেন, বিষ খাওয়া রোগীকে সর্ব অবস্থায় সরকারি হাসপাতালে নিতে হবে। কিন্তু তারা এটা করেনি। সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন স্যারের নির্দেশে আনিকা ক্লিনিক সিলগালা করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত ক্লিনিকটির সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
খুলনা গেজেট/এএজে
