বুধবার । ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ । ৩০শে পৌষ, ১৪৩২

১৩শ’ কোটি টাকার কুল বিক্রির টার্গেট সাতক্ষীরায়

এম এম জামান মনি

তালা উপজেলার হাট বাজারে খুচরা ও পাইকারি কুল বেচাকেনা জমে উঠেছে। চলতি মৌসুমে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের কুল এ অঞ্চলের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ট্রাক ভর্তি কুল যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। এখানকার উৎপাদিত কুলের মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। একই সাথে স্বল্প সময়ে লাভজনক হওয়ায় ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে এই অঞ্চলের কুল চাষ।

সূত্রমতে, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে শত শত কুল চাষিরা তাদের উৎপাদিত কুল এ বছর কয়েক কোটি টাকা বেচা বিক্রি করবেন বলে জানা যায়। এসব কুলের মধ্যে রয়েছে বিলাতি মিষ্টিকুল, থাই আপেল, বল সুন্দরী, কাশমির আপেল, দেশি আপেল, নারিকেল, বোম্বাই ও টক জাতের কুল।

তালা উপজেলা ও সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলায় ৯শ’ ৫০ হেক্টর পরিমাণ জমিতে কুল চাষ হয়েছে। যা গত বছরের ব্যবধানে প্রায় ৪০ শতাংশ আবাদ বেড়েছে। সূত্রটি আরও জানায়, ২০১৯ তালা উপজেলাসহ এ জেলায় কুলের আবাদ ছিল ৫শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে। সেই হিসেবে চলতি মৌসুমে এর আবাদ ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে বছরে প্রায় ১৭ হাজার মেট্রিক টন কুল উৎপাদন হওয়ার বিষয়টি জানা গেছে। এর মধ্যে তালা ও কলারোয়া উপজেলাতে সবচেয়ে বেশি কুল উৎপাদন হয়। যার গড় মুল্য ১ হাজার ৩শ’ কোটি টাকার উপরে।

জেলার উৎপাদিত কুল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। কুল চাষি পাঞ্জাব আলী বলেন, “গত ৮ বছর ধরে তিনি এই চাষের সাথে জড়িত। অন্যের জমি লিজ নিয়ে সাত বিঘা জমিতে চাষকৃত ক্ষেতে আপেলকুল, বল সুন্দরী, বিলাতি মিষ্টি, কাশমির আপেল, দেশি, নারিকেল ও টক বোম্বাই কুলের চাষ করেছেন। এসব গাছে এক নাগাড়ে গত ৬ বছর ধরে কুলের ফলন হচ্ছে।” প্রতি বছর কুলের মৌসুমে ১২-১৩ লাখ টাকার মত কুল বিক্রি করেন বলে তিনি জানান। চলতি মৌসুুুমেও কুল বিক্রি শুরু হয়েছে। স্থানীয় পাইকাররাসহ খুলনার ব্যবসায়ীরা তার বাগান থেকে কুল সংগ্রহ করছেন।

কুল চাষি শিক্ষক লাল্টু বলেন, “গত ৫ বছর ধরে নিজের জমিতে কুল চাষ করি। গত বছর ১০ বিঘা পরিমান জমিতে আপেলকুল উৎপাদন করে ৬ লাখ টাকা লাভ হয়। অন্য সব ফসলের চেয়ে কুল চাষ খুবই লাভজনক। মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন মাসের ফসল কুল বিক্রির জন্য উপযোগী হয়, একই সাথে এ ফসলে ঝুঁকিও কম।”

পাইকারি কুল ব্যবসায়ী ও আড়তদার রাসেল হোসেন বলেন, “এ অঞ্চলের উৎপাদিত কুল বাজারে চাহিদা অনেক বেশি। খুলনা বিভাগীয় শহর ছাড়াও বরগুনা, পটুয়াখালী, মাদারীপুর, বরিশাল ও পিরোজপুর এলাকাতেও কুল সরবরাহ করে থাকেন।” তিনি প্রতি মণ আপেলকুল ও বিলাতি মিষ্টিকুল ৩ হাজার ৫শত থেকে ৩ হাজার ৬ শত টাকা দরে পাইকারি ক্রয় করছেন। প্রতি মৌসুমে ৭ থেকে ৮ হাজার মণ কুল কেনার বিষয়টি জানান।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. জামাল উদ্দিন, অল্প সময়ের মধ্যে খুবই লাভজনক কুল চাষ। সে কারণে এ জেলায় দ্রুত কুল চাষের প্রসার ঘটছে। তিনি বলেন, “বছরে ১৭ থেকে ১৮ হাজার মেট্রিক টন কুল উৎপাদন হচ্ছে।” যার গড় মূল্য ১ এক হাজার ৩শ’ কোটি টাকার উপরে বলে তিনি জানিয়েছেন। সর্বোপরি কৃষি প্রধান এদেশের একেবারে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের বহু চাষিদের অভাবনীয় সাফল্য বয়ে আনছে এই খাত। সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থা আরও ভালো হলে স্থানীয় চাষিরা কুলচাষে আরও আগ্রহী হবে বলে তিনি আশা করেন।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন