Edit Content
খুলনা, বাংলাদেশ
শনিবার । ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ । ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩২
Edit Content

শ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদীর চর দেবে ভাঙ্গন আতংকে সাড়ে ৩শ’ পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের উত্তর ভামিয়ার জমাদ্দার পাড়ায় খোলপেটুয়া নদীর প্রায় ৪শ’ ফুট চর দেবে গিয়ে ভাঙ্গন আতংক দেখা দিয়েছে। এতে বসতঘর ও জমি হারানোর শংকায় দিন কাটছে ওই এরাকার অন্তত সাড়ে ৩শ’ পরিবারের।

ভাঙ্গনকবলিত এলাকাবাসী জানান, চরের এই অংশ হঠাৎ করে দেবে গেছে। এরপর এলাকাজুড়ে আতংক তৈরি হয়েছে। ভাঙ্গনরোধে আগাম কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, চর দেবে যাওয়ার পর চার দিন অতিবাহিত হলেও খোলপেটুয়া নদীর ওই এলাকায় ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ নেয়নি। একের পর এক চর দেবে গেলেও শুধুমাত্র পরিদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে তাদের কার্যক্রম। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো সময় উপকূল রক্ষা বাঁধ ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলো নদীতে তলিয়ে যাবে।

স্থানীয় এরশাদুর রহমান বাবু বলেন, গত কয়েকদিন ধরে অব্যাহতভাবে জমাদ্দার পাড়া সংলগ্ন এলাকা নদীর চর ভাঙছে। এই অংশের চর নদীতে দেবে গিয়ে এলাকার ঘরবাড়ি, মৎস ঘের, মিষ্টি পানির পুকুর, মসজিদসহ নীলডুমুর ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরও ঝুঁকির মধ্যে চলে যাচ্ছে। তারপরও কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

স্থানীয় আবুল হোসেন, অহিদ জমাদ্দার ও সেলিম হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, গত শনিবার নদীর চরে ভাঙ্গন দেখা দেয়। যত সময় যাচ্ছে আস্তে আস্তে ভাঙ্গন ওয়াপদার দিকে চলে আসছে। ভাঙ্গনকবলিত স্থানে ৭০ থেকে ৮০ ফুট গভীর হয়ে গেছে। দ্রুত এই ভাঙ্গন রোধ করা না গেলে ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে এই এলাকার মানুষদের।

বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, স্থানীয়রা গত দুইদিন আগে আমাকে ভাঙনের বিষয়টি জানায়। আমি তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, যদি ডেবে যাওয়া স্থানটিতে জিও ভর্তি বালু বস্তা ডাম্পিং করা না হয় তাহলে আমার ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন ও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া এখন মৎস্য ঘেরে মাছ চাষের সিজেন হওয়ায় প্রতিটি ঘেরে প্রচুর পরিমাণ চিংড়ি মাছ রয়েছে, আর এই এলাকা ভেঙ্গে গেলে বহু টাকার লোকসানে পড়তে হবে এই উপকূলের মৎস্য চাষীদের।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড-১-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী/শাখা কর্মকর্তা (শ্যামনগর পওর শাখা) মোঃ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে ভাঙ্গনকবলিত এলাকা পরিদর্শনসহ বর্তমান বেড়িবাঁধের অবস্থার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ভাঙ্গনকবলিত স্থানের জরিপও শেষ হয়েছে। আশা করছি অতি দ্রুতই সেখানে কাজ শুরু হবে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন