Edit Content
খুলনা, বাংলাদেশ
শনিবার । ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ । ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩২
Edit Content
শেষ হচ্ছে তিনমাসের নিষেধাজ্ঞা

সুন্দরবনে প্রবেশের অপেক্ষায় জেলেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা

সম্প্রতি সময়ে সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশের উপর চলছে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা। জুন থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা চলবে আগস্টের শেষ অবধি। এদিকে টানা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা থাকায় সুন্দরবনের নদ-নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহকারি উপকূলের জেলেরা পড়েছে চরম বিপাকে। বেকার হয়ে বসে থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। সমিতির ঋণ নিয়ে চালাতে হচ্ছে সংসার। দিন দিন বাড়ছে ঋণের বোঝা। অপেক্ষার প্রহর গুনছেন নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে কবে ঢুকবেন সুন্দরবনে।

মুন্সিগঞ্জ জেলে পল্লীর নেপাল মন্ডল (৫০) জানান, দীর্ঘ ৩৫ বছর সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বর্তমানে সুন্দরবনে প্রবেশের উপর তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা চলছে। ফলে তিন মাস নদীতে মাছ ধরতে যেতে পারি না। সমিতির ঋণ নিয়ে সংসার চালাতে হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে সমিতির টাকা শোধ করতে মহাজনের কাছ থেকে সুদের টাকা নিয়ে কিস্তি দিতে হচ্ছে। বছরে পাঁচ মাস সরকারি নিয়ম অনুযায়ি সুন্দরবনে মাছ ধরা বন্ধ থাকে। বাকি সময়গুলোতে সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরে ঋণের টাকা শোধ করা সম্ভব হয় না। দিন দিন ঋণের বোঝা বাড়তেই আছে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা গাবুরা ইউনিয়নের সোরা গ্রামের জিন্নাত আলী বলেন, আমাদের একমাত্র আয়ের পথ হলেও সুন্দরবন বছরে সরকারিভাবে পাঁচ মাস বন্ধ থাকে। মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে দাদন নিয়ে সংসার চালাতে হয়।

সম্প্রীতি জুন-জুলাই-আগস্ট তিন মাস সুন্দরবনকে সকল ধরনের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা থাকায় অতি কষ্টে দিন পার করছে উপকূলের জেলে ও সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল সংশ্লিষ্টরা। বন্ধের সময় সরকারিভাবে জেলেদের জন্য ৮৬ কেজি চাউল বরাদ্দ থাকলেও সেটা থেকেও বঞ্চিত থাকেন অনেকে।

ট্রলার মালিক আব্দুল হালিম বলেন, তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক না যাওয়ায় আমাদের ট্রলারগুলো অকেজ হয়ে পড়ে থাকে। ফলে যান্ত্রিক সমস্যা হয়। পরবর্তীতে সেগুলো মেরামত করার জন্য সমিতি ও মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিতে হয়।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ি সাতক্ষীরা রেঞ্জের ৪টি স্টেশনের ২ হাজার ৯ শত বিএলসির মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাছ আহারণের জন্য ১১৭০ বিএলসিতে ১২ হাজার ২৩৭ টি পাস নিয়ে মাছ ধরতে যায় ৩২ হাজার ৭১১ জন জেলে। একই সাথে ১৭২২ বিএলসিতে ১৯ হাজার ৫৩২ টি পাস নিয়ে কাঁকড়া ধরতে যায় ৪৪ হাজার ৩৫০ জন জেলে। এছাড়া ভ্রমণের জন্য ৯১ টি ইঞ্জিন চালিত ট্রলারের বিএলসিতে ৪৫ হাজার ৫৩৯ জন দেশি পর্যটক ও ৭০ জন বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করে।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) ফজলুল হক জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ি সুন্দরবনকে তিন মাসের জন্য সকল ধরনের পরিবেশ নিষেধাজ্ঞা করা হয়েছে। যে কারণেই পর্যটক থেকে শুরু করে কোন জেলেই সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারে না। যারা প্রকৃত জেলে তাদের জন্য সরকারি ভাবে দুই কিস্তিতে ৮৬ কেজি করে চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন