শুক্রবার । ৬ই মার্চ, ২০২৬ । ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩২
মামলায় অভিযোগ

দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তার প্ররোচনায় ইবি শিক্ষিকাকে হত্যা

গেজেট প্রতিবেদন

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়–এর সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা (৩৫) হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমান, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার, সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান এবং সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাসকে আসামি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা-তে উপস্থিত হয়ে মামলাটি করেন। শ্যাম সুন্দর সরকার এর আগে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ছিলেন। আর বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস বর্তমানে উম্মুল মোমেনিন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিলেন।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় কর্মচারী খন্দকার ফজলুর রহমান আসমা সাদিয়াকে হত্যা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিশ্চিত করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ রানা।

এর আগে বুধবার বিকেলে নিজের অফিসকক্ষে ছুরিকাঘাতে নিহত হন আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমান নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়।

মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০১৮ সালে সমাজকল্যাণ বিভাগের তহবিল থেকে অফিস সহায়ক হিসেবে নিয়োগ পান ফজলুর রহমান। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আসমা সাদিয়া বিভাগের সভাপতি হওয়ার পর আগের সভাপতি শ্যাম সুন্দর সরকারের সময়কার আয়-ব্যয়ের হিসাব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস তাকে নির্দিষ্ট কাগজে শুধু স্বাক্ষর করার জন্য চাপ দেন। তবে আসমা সাদিয়া বিভাগের অর্থ স্বচ্ছভাবে ব্যয়ের কথা জানালে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, ফজলুর রহমানসহ কয়েকজন মিলে বিভাগের অর্থ অপব্যবহার করতেন এবং এ বিষয়ে বাধা দেওয়ায় আসমা সাদিয়ার সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে। বিভিন্ন সময় ফজলুর রহমান তার সঙ্গে অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারও করেন। একবার সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমানের উপস্থিতিতেই তিনি আসমাকে অপমানজনক ভাষায় আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এসব বিষয় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন রোকসানা মিলিকে মৌখিকভাবে জানান আসমা সাদিয়া। পরে ডিনের নির্দেশে বিভাগে সভাও অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সভাপতিকে অসহযোগিতার অভিযোগে ফজলুর রহমানকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। তবে এ সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন শিক্ষক হাবিবুর রহমান এবং ফজলুরকে পুনরায় সমাজকল্যাণ বিভাগে ফেরানোর দাবি জানান।

এছাড়া বিভাগের অর্থ তছরুপের অভিযোগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাসকেও বদলি করা হয়। এরপর থেকেই আসমা সাদিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তার প্ররোচনায় ফজলুর রহমান ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার অফিসকক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে তাকে হত্যা করেন।

আসমা সাদিয়ার জানাজায় উপস্থিত শিক্ষক হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। আমাকে ঘটনার সঙ্গে কেন জড়ানো হয়েছে, তা আমার জানা নেই। একই বিভাগের শিক্ষক হিসেবে ফজলুর রহমান সবার কাছেই আসত। সবাইকে বলত তাকে আবারও সমাজকল্যাণ বিভাগে ফিরিয়ে আনতে।’

এ বিষয়ে জানতে সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকারের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি তা রিসিভ করেননি। ওসি মো. মাসুদ রানা বলেন, মামলায় চারজন আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিদের ধরতে ও আইনি পদক্ষেপ নিতে পুলিশ কাজ করছে।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) ফয়সাল মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ফজলুর রহমান প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে লিখিতভাবে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখনই কিছু বলছি না।’

খুলনা গেজেট/এমএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন