সাড়ে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কুয়েটের নান্দনিক ফরেন স্টুডেন্ট ডরমেটরী

একরামুল হোসেন লিপু

বিদেশি স্টুডেন্ট, দেশি-বিদেশি গবেষকদের আবাসনের সুব্যবস্থায় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এ প্রথমবারের মতো নির্মিত হল ফরেন স্টুডেন্ট ডরমেটরি এন্ড ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি এ্যাকোমোডেশন। পাঁচ তলা বিশিষ্ট আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এ ডরমেটরী নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও একাডেমিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় দৃষ্টিনন্দন এ ভবনটি নির্মিত হয়েছে। এসএসইসিএল-এমএসই (জেভি) নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনটি’র নির্মাতা। নান্দনিকে এ ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)’র অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. শামীম জেড বসুনিয়া। পহেলা সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এটি উদ্বোধন করেন।

নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী ড. জুলফিকার হোসেন খুলনা গেজেটকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রথম যখন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ছিল, সেই সময়কাল থেকে বিদেশি ছাত্ররা এখানে লেখাপড়া করে আসছে। এতদিন তারা আমাদের ছাত্রদের সাথে আবাসিক হলে অবস্থান করছিল। এতে করে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এছাড়া দীর্ঘদিন এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশসমূহ থেকে ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। এটি নির্মাণের মধ্যদিয়ে বিদেশি ছাত্রদের বাংলাদেশে লেখাপড়ার আগ্রহ বাড়বে।

এছাড়া স্বল্প সময়ের জন্য আসা বিশেষজ্ঞদের সাময়িক সময়ের জন্য আবাসন সুবিধা প্রদানের প্রয়োজনীয়তা ছিল। অভারঅল সকল বিষয়গুলো বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফরেন স্টুডেন্ট ডরমেটরী ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২২ সালে এটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)’র অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ড.শামীম জেড বসুনিয়া নান্দনিক এ ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইনার। ভিশন নামে একটি কনসালটেন্ট ফার্ম শুরু থেকে ভবনটি নির্মাণ কাজের তদারকি করেছে। ভবনটির মোট আয়তন ৪ হাজার ২০০ বর্গমিটার। রুম সংখ্যা ৯০টি। প্রত্যেক রুমের সাথে কিচেন ফ্যাসালিটিজ, বারান্দা ও টয়লেটসহ আধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধা সন্নিবেশিত রয়েছে। রয়েছে ক্যান্টিনের সু-ব্যবস্থা। ওঠা-নামায় আধুনিক লিফট ছাড়াও রয়েছে দৃষ্টিনন্দন সিঁড়ি।

এদিকে নান্দনিকে এ ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে আগতরা ভবনটি সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন