বর্জ্য রিসাইকিং প্লান্টের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন

খুলনায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন দ্বার উন্মোচন হবে : কেসিসি প্রশাসক

একরামুল হোসেন লিপু

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ডুমুরিয়া উপজেলার শলুয়ায় নির্মাণাধীন বর্জ্য রিসাইকিং প্লান্টের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে প্লান্টে স্থাপিত মেশিনারিজ পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়। এই প্ল্যান্ট থেকে একই সঙ্গে উৎপাদিত হবে জৈব সার, জ্বালানি তেল, বায়োগ্যাস ও বিদ্যুৎ।

পরিদর্শন শেষে উপস্থিত কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে কেসিসি প্রশাসক বলেন, আজই প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে প্লান্টের মেশিনারিজ চালু করা হয়েছে। ত্রিশ ঘণ্টা পর এর ফলাফল জানা যাবে এবং প্রথম পরীক্ষামূলক চালু করায় প্রকৌশলীগণ এর ওপর একটি রিপোর্ট প্রদান করবেন। প্রকল্পটির সফলতার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আরো বলেন, প্লান্টের কার্যক্রম সফল হলেই খুলনার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নতুন দ্বারা উন্মোচিত হবে। বর্জ্য বোঝা নয়, সম্পদে পরিণত হবে এবং দেশের অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন ও জেলা শহরের জন্য এটি একটি মডেল প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট আনিসুর রহমান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মাহবুবুর রহমান, প্রকল্পের ম্যানেজার প্রকৌশলী মিন্টু মন্ডল, সিআরডিপি-২’র টিম লিডার মোঃ শফিকুর রহমান, কোয়ালিটি কন্ট্রোলার মোঃ শামসুদ্দিন মোল্লা, সিআরডিপি-২’র কনসালটেন্ট মোঃ রুবেল আলী ও প্রকৌশলী মোঃ সোহেল রানা ইয়াসিন এবং ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট প্রকৌশলী মেজবাহ উদ্দিন।

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শলুয়া বাজার সংলগ্ন ১৭ একর জমিতে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয়। খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) যৌথভাবে প্রকল্পটির উদ্যোক্তা। দ্বিতীয় নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প (সিআরডিপি-২)’র আওতায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে এটিতে অর্থায়ন করেছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৫৩ কোটি টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড কাজটি বাস্তবায়ন করছে।

যেভাবে কাজ করবে প্ল্যান্টটি : প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, তিন ধরনের বর্জ্য থেকে তিন ধরনের পণ্য উৎপাদন হবে। গৃহস্থালির পচনশীল বর্জ্য থেকে তৈরি হবে জৈব সার, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন ও প্লাস্টিক রিসাইকেল করে উৎপাদন করা হবে জ্বালানি তেল এবং কাঁচাবাজার থেকে সংগৃহীত বর্জ্য থেকে তৈরি বায়োগ্যাস দিয়ে উৎপাদন করা হবে বিদ্যুৎ। অত্যাধুনিক পাইরোলাইসিস প্রযুক্তি ব্যবহারে বায়ু দূষণের কোনো শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হলে প্রতিদিন ২০ টন জৈব সার, ৪ হাজার ৮০০ লিটার জ্বালানি তেল এবং উৎপাদিত বায়োগ্যাস থেকে সাড়ে ৪শ’ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। উৎপাদিত তেল ও বিদ্যুৎ প্ল্যান্টের নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে অন্যত্র সরবরাহ করা হবে। প্রতি ব্যাচ বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণে সময় লাগবে এক সপ্তাহ।

কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মহানগরীতে প্রতিদিন প্রায় ৮০০ টন বর্জ্য উৎপাদিত হয়। এই প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হলে শহরের প্রায় ৩০ শতাংশ বর্জ্য এখানেই ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে, যা নগরীর জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণ কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন