পাইকগাছায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে দিন দিন। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৬ দিনেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে ২৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। রোগীর চাপ সামলাতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা ৫টি থেকে বাড়িয়ে ২৫টি করা হলেও তাতেও সংকুলান হচ্ছে না। কোনো কোনো রোগীকে হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মে মাসে ৬ জন, জুনে ৪ জন, জুলাইয়ে ১৫ জন এবং আগস্টে ৪৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। সেপ্টেম্বরের ২৬ দিনেই ভর্তি হয়েছেন আরও ১০৪ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০৪ জনে।
হাসপাতাল সূত্র বলছে, আগস্ট মাসে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মাত্র পাঁচটি শয্যা নির্ধারিত ছিল। সেপ্টেম্বর মাসে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় আরও ২০টি শয্যা বাড়ানো হয়। বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ২৫টি শয্যা রয়েছে। তবে প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় এসব শয্যায় জায়গা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে অন্যান্য রোগীসহ প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। এর মধ্যে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. শাকিলা আফরোজ বলেন, “বর্তমানে হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেশি। পাশের উপজেলা থেকেও অনেকে এখানে চিকিৎসা নিতে আসছেন। চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল কম থাকায় রোগীদের সেবা দিতে তাঁদের কষ্ট হচ্ছে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ ময়না বলেন, “প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৫ জন রোগী ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। পৌরসভা, স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
এদিকে, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও পৌর এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পৌরসভার স্থায়ী বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, “চলতি মৌসুমের শুরু থেকে মশক নিধনে তেমন কার্যক্রম চোখে পড়েনি। বিভিন্ন ড্রেন, নালা ও মশার প্রজননস্থল অপরিষ্কার থাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে।”
পৌরসভার সচিব লালু সরদার বলেন, “স্থানীয় সরকার বিভাগ ও পৌরসভার অর্থায়নে বিভিন্ন ওয়ার্ডে মশক নিধনের ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে। নিয়মিত ড্রেনও পরিষ্কার করা হচ্ছে।”
পাইকগাছা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, “ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় পৌরসভার উদ্যোগে মশক নিধন কার্যক্রম চলছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কার করা হচ্ছে।”
খুলনা গেজেট/এনএম

