মানবতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। মোবাইল ফ্রিজার কফিন রাখা হয়েছে এমটি রোড জামে মসজিদে। মৃত্যুর পর স্বজনদের দেখানোর জন্য লাশ এ ফ্রিজার কফিনে রাখা হবে। দু’দিন, তিনদিন লাশ রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের কোনো খরচ বহন করতে হবে না।
এ উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন গগন বাবু রোডের সেকেন্দার জাফরুল্লাহ খান সাচ্চু। তিনি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শনে বিশ্বাসী স্থানীয় একজন রাজনীতিক। সবুরুনেচ্ছা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। এক সময় খুলনা শিশু হাসপাতালের মহাসচিব ছিলেন। তিনি তার পিতা আমীর আলী খান ও মা সৈয়দা বেগমের স্মৃতি উৎসর্গে উপহার দিয়েছেন এই মোবাইল ফ্রিজার কফিনটি। তার বোন আতিকা ইসলাম ঝিনাইদহ শহরে ইন্তেকাল করেন। তার লাশ এমন একটি ফ্রিজার কফিনে রাখা হয়। এটি নির্মাণ করেন ঝিনাইদহ শহরের প্রকৌশলী সাইমুন ইসলাম। এটি নির্মাণে ব্যয় হয় দেড় লাখ টাকা।
বোনের লাশ ফ্রিজার কফিনে রাখার দৃশ্য দেখা সমাজসেবী সাচ্চু খুলনাবাসীর কাছে এমন একটি ফ্রিজার কফিন উপহার দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার এ চিন্তা আলোকে ঝিনাইদহ থেকে ফ্রিজার কফিনটি তৈরি করে খুলনায় আনা হয়। শুক্রবার বাদ জুম্মা এমটি মসজিদে তিনি এটি হস্তান্তর করেন। যে কেউ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবে। খুলনায় এ ধরনের উদ্যোগ প্রথম।
শুক্রবারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়াসার চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান মনি, সাবেক কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন বনি, স্থানীয় বিএনপি নেতা নিজামুর রহমান লালু, এড. ফজলে হালিম লিটন, ইউসুফ হারুন মজনু, জাতীয় দলের সাবেক ফুটবল খেলোয়াড় ছোট জাহাঙ্গীর, এ্যাড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, নাগরিক নেতা সরদার আবু তাহের প্রমুখ।
খুলনা গেজেট/এনএম

