রূপসায় ডেঙ্গুর প্রদুর্ভাব মারাত্মক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল শনিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন ২৩ রোগী। শয্যা সংকটে এসব রোগী ফ্লোরে চিকিৎসা নিচ্ছে।
বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে থাকা, জলাবদ্ধতা ও এডিস মশার বিস্তারে দেশ জুড়ে বেড়েছে ডেঙ্গুর ঝুঁকি। এরই ধারাবাহিকতায় খুলনার হাসপাতালগুলোতে জ্বর ও ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে রোগীর চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আশংকাজনক হারে ডেঙ্গু সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন চিকিৎসক ও স্বজনেরা।
দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ইতোমধ্যে ১৮ হাজার ছাড়িয়েছে। জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে রূপসা উপজেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যেই ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ইউনিট করা হয়েছে। হাসপাতালের তৃতীয় তলায় পুরুষ রোগীদের জন্য যে বেডগুলি বরাদ্দ ছিল সেই বেডগুলি সহ কেবিন মিলে ডেঙ্গু রোগীদের ইউনিট তৈরি করা হয়েছে। এই ইউনিটে রয়েছে ৩টা কেবিনসহ ১৫ টা বেড।
গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু ইউনিটে গিয়ে দেখা গেছে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছে ২৩ জন। অথচ বেডের সংখ্যা ১৫টি। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে সীমিত বেড থাকার কারণে বাধ্য হয়েই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডেঙ্গু রোগীদের বেড ফ্লোরে দিতে বাধ্য হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন ডাক্তার ও নার্সসহ সকলে আপ্রাণ চেষ্টা করে রোগীদের সেবা প্রদান করছেন। বেশিরভাগ রোগী নৈহাটি ও টিএসবি ইউনিয়নের।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ মাজেদুল হক কাওছার বলেন, এখন বর্ষার সময় এডিস মশায় কামড়ালে ডেঙ্গু হয়। এই মশাগুলির স্বচ্ছ পানিতে ডিম পাড়ে এবং বংশবিস্তার করে। এদের বংশবিস্তার রোধ করতে ছাদে, ফুলের টবে এবং আশেপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ করা প্রয়োজন। এই পানি না পেলে মশা ডিম পাড়তে পারবেনা। এদের বংশবিস্তার কমে যাবে। মশাও কমে যাবে। আস্তে আস্তে রোগীর সংখ্যাও কমে আসবে। এ ব্যাপারে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। এছাড়া সকলকে মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে হবে। সকলকে খেয়াল রাখতে হবে কোনোভাবেই যেন মশা না কামড়ায়। তিনি বলেন, আমাদের মাননীয় এমপি সাহেব গত মঙ্গলবার হাসপাতাল পরিদর্শন করে গেছেন। তিনি তার নিজস্ব অর্থায়নে তিন জন পরিচ্ছন্ন কর্মীর মাসিক বেতন দিয়ে থাকেন। যেটা ওই দিন দিয়ে গেছেন। এছাড়া হাসপাতালে কোন অসুবিধা হলে তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেছেন।
খুলনা গেজেট/এনএম

