খানজাহান আলী বিমান বন্দর নির্মাণ প্রকল্পে আবারও আশার আলো দেখিয়েছে চীনা কোম্পানি। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে স্থবির থাকা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে তারা। গত ২৫ জুলাই বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, কেডিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে এলাকা ঘুরে দেখেছেন কোম্পানির কর্মকর্তারা। পরে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে তারা।
সূত্রটি জানায়, ১৯৯৬ সালের ২৭ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিমান বন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। মাটি ভরাটের পর প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৫ সালে নতুন করে ‘খানজাহান আলী বিমান বন্দর নির্মাণ প্রকল্প’ গ্রহণ করে সরকার। ব্যয় ধরা হয় ৫৪৫ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে ওই এলাকায় আরও ৫২৯ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ওই সময় পিপিপির আওতায় বিমান বন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভারতের একটি প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা যাচাই করে নেতিবাচক প্রতিবেদন দিলে প্রকল্পটি স্থগিত হয়ে যায়। এরপর প্রতিবছরই বিমান বন্দর নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি দিয়ে আসছে এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীসহ উন্নয়ন কর্মীরা। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা বলেন, গত মাসে খানজাহান আলী বিমান বন্দর নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করে চীনের কোম্পানি যোগাযোগ করে। তাদের সঙ্গে এলাকাটি পরিদর্শন করি এবং আনুষ্ঠানিক চিঠি দিতে বলি। গত ৩০ জুলাই তারা বিবেচক চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে। এখন বেবিচক পরবর্তী পদক্ষেপ নিবে।
খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আসাদুর রহমান বলেন, বিমান বন্দরের অভাবে বিদেশী ক্রেতা, আমদানিকারকরা খুলনায় আসতে চান না। খুলনায় একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম রয়েছে, অথচ বিমান বন্দর না থাকায় বড় আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো এখানে হয় না। মোংলা ইপিজেড, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সুন্দরবনের মতো পর্যটন কেন্দ্রের কারণে খুলনার কাছাকাছি একটি বিমান বন্দর খুবই প্রয়োজন।
খুলনা গেজেট/এনএম

